শেষ হলো জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্ব

শেষ হলো জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্ব
২২ জুন, ২০২৫ ০৬:১৫  
২২ জুন, ২০২৫ ১১:০২  

দেশের ৬৪ জেলার ১৬টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচিত বিজয়ী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ২১ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো   ‘জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা (এনএইচএসপিসি) ২০২৫’ প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্ব। আঞ্চলিক পর্যায়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে বিজয়ীদের বাছাই করা হয়েছে।

জাতীয় পর্বে প্রোগ্রামিং জুনিয়র ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন খুলনা জিলা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র অরিত্র সরকার। প্রোগ্রামিং সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন বিএএফ শাহীন কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্র রায়ান ফেরদৌস।

প্রোগ্রামিং হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের  দেবজ্যোতি দাশ সৌম্য।

কুইজ প্রতিযোগিতায় জুনিয়র ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র মোঃ তাহসিন কবির। কুইজ প্রতিযোগিতায় সিনিয়র ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন দশম শ্রেণীর রায়হান মাহবুব।

দাবা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় ৪ সদস্যের একটি দল যেখানে ছিলেন সিয়াম চৌধুরী, রায়ান রশিদ মুগ্ধ, ওয়ারসিয়া খুশবু ও নীলাভা চৌধুরী।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ(কেআইবি)- খামারবাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুইজ ও দাবা প্রতিযোগিতা। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যাময়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিঊট এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল(বিসিসি)-তে। 

কেআইবি-তে। বিকেলে পুরষ্কার বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয় এবারের পর্ব। এছাড়া সারাদিন ধরে আরো ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক সেশন, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

সমাপনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিদের উদ্দেশে তিনি আশা ব্যক্ত করেছেন, আজকের এই প্রজন্মই ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। আজকের প্রোগ্রাররা জাতিকে আলোর দিশারী হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।  

পুরস্কার বিতরণীতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেছেন, “ বাংলাদেশ যে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সরকার তা পুরোপুরি বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা করছে। ভবিষ্যতে এই প্রোগ্রাম আরো বড় পরিসরে হবে।” 

এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রেখেছেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক, মোঃ জফুরুল আলম খান, তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ মেহেদী হাসান বলেছেন, “ মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন। এই ধরনের প্রতিযোগিতা এই প্রজন্মকে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করবে।”

গত ২৮ মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়- এই তিনটি ভ্যেনুর মাধ্যমে এনএইচএসপিসি-এর আঞ্চলিক পর্বের সূচনা হয়। এর অন্তর্ভূক্ত জেলাগুলো হলো, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, টাংগাইল, গাজীপুর, ভোলা, বরিশাল ও ঝালকাঠি।

 

২৯ ও ৩০ মে যথাক্রমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয় আরো দুইটি আঞ্চলিক পর্ব যেখানে অন্তর্ভূক্ত ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও মানিকগঞ্জ। ইদের দীর্ঘ ছুটির পর ১৬ই জুন একই দিনে পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলা নিয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাজশাহী, নঁওগা, জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মাগুড়া ও নড়াইল জেলা নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি আঞ্চলিক পর্ব সম্পন্ন হয়। পরদিন ১৭ই জুন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে দিনাজপুর,পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলা অন্তর্ভূক্ত ছিল, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন ও রাঙ্গামাটি জেলা অন্তর্ভূক্ত ছিল এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে রংপুর, বগুড়া, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলা অন্তর্ভূক্ত ছিল, এই তিনটি আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ ১৮ জুন একই দিনে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয় যেখানে অন্তর্ভূক্ত ছিল ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, যশোর, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জর, মৌলভীবাজার, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর। আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা  করে ।   

জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ২০২৫-এর মূল আয়োজক বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (BCC) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (ICT Division)। বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন, EDGE (Enhancing Digital Government and Economy) প্রকল্প এবং ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (NCSA)।