৩টি লরিতে পাবনায় নেওয়া হচ্ছে পারমাণবিক জ্বালানি; সঙ্গে পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা

সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের পথে ইউরেনিয়ামের চালান

  • শনিবার সকাল সোয়া ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ৩টি লরির বিশেষ কনভয়
  • বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এসআরবি, পুলিশ ও বিশেষ নিরাপত্তা সংস্থার কঠোর কর্ডনে পাবনার ঈশ্বরদীতে নেওয়া হচ্ছে এই চালান
  • শুক্রবার রাতে রাশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছায় জ্বালানি; নভেম্বর-ডিসেম্বরে আরও ৯টি ফ্লাইটে আসবে ২১১টি অ্যাসেম্বলি

সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের পথে ইউরেনিয়ামের চালান
৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:৫৩  

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প এলাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ গাড়িবহর। প্রথম ইউনিটের জন্য আনা এই তেজস্ক্রিয় পারমাণবিক জ্বালানি ৩টি বিশেষায়িত লরিতে করে সড়কপথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

৩ অক্টোবর, ২০২৬ শনিবার সকাল আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গাড়িবহরটি কঠোর প্রটোকল মেনে রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পুরো কনভয়টির সামনে ও পেছনে সার্বিক নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এছাড়া স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), ট্রাফিক ও জেলা পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সড়কপথের প্রতিটি ধাপে নিশ্ছিদ্র নজরদারি ও নিরাপত্তা দিচ্ছেন। যেকোনো ঝুঁকি এড়াতে মহাসড়কে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।

এর আগে ২ অক্টোবর, শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ বিমানটি রাশিয়া থেকে ভারত হয়ে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমান অবতরণের পরপরই বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তেজস্ক্রিয় জ্বালানির চালানটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন এবং রাতেই তা সুরক্ষিত পরিবহন কনভয়ে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

প্রকল্পের ভবিষ্যৎ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আরও ৯টি পৃথক ফ্লাইটে রূপপুরের জন্য অতিরিক্ত ইউরেনিয়াম দেশে এসে পৌঁছাবে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনা হবে। এসব চালান পর্যায়ক্রমে রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে নির্ধারিত আকাশপথে বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

 এর আগে ২০২৩ সালে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের প্রাথমিক পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আসে এবং চলতি বছরের মে মাসে তা পারমাণবিক চুল্লিতে সফলভাবে স্থাপন করা হয়। বর্তমানে প্ল্যান্টটির স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের চূড়ান্ত কারিগরি নিরীক্ষা চলছে। এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ামাত্রই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে ধাপে ধাপে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ শুরু হবে।

//ডিবিটেক/ এসএমপি/এমভিএনও/বিপিসি//