ঠোঁটকাটা শিশুদের পুনর্বাসনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: আইসিটি মন্ত্রী
টেলিমেডিসিনে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ঘোষণা
- জন্মগত ঠোঁট ও তালু কাটা শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে প্রযুক্তিবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে সরকার।
- টেলিমেডিসিন, স্বাস্থ্যবিষয়ক অ্যাপ ও ডিজিটাল উদ্ভাবনে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরা বিশেষজ্ঞ সেবা পাবে।
- বিশ্ব হাসি দিবসে সফল অস্ত্রোপচারপ্রাপ্ত শিশু ও তাদের পরিবারকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান।
ডিজিটাল হেলথটেক সমাধান, আধুনিক টেলিমেডিসিন ও চিকিৎসা উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে। জন্মগত ঠোঁট ও তালু কাটা শিশুদের সঠিক চিকিৎসা ও আধুনিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকার সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি জানান, প্রযুক্তিনির্ভর উপযুক্ত চিকিৎসা সুবিধা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে এসব শিশুর মুখে অনাবিল হাসি ফোটানো একটি বড় সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ব।
২ অক্টোবর, শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ‘স্মাইল ট্রেন আমেরিকা’র সার্বিক সহযোগিতায় নিউ লাইফ হসপিটাল ক্লেফট প্রজেক্ট ও চাইল্ড হেলথ্ এওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিশ্ব হাসি দিবস-২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। দিবসটি উপলক্ষ্যে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা শিশু ও তাদের পরিবারের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবায় তথ্যপ্রযুক্তির ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে মন্ত্রী জানান, শিশুদের আধুনিক চিকিৎসা সেবা আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও দ্রুতগতির করতে তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে টেলিমেডিসিন নেটওয়ার্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর হেলথ অ্যাপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কল্যাণে এখন প্রান্তিক পর্যায়ের রোগীরাও রাজধানী ও বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সরকার প্রযুক্তির এই সমন্বিত সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, একটি শিশুর হাসিমুখ শুধু তার পরিবার নয়, পুরো সমাজের মানসিক শক্তি বাড়ায়। ডা. বিজয় কৃষ্ণ দাসসহ সংশ্লিষ্ট প্লাস্টিক সার্জন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবা কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সময়, মেধা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিযোগ করাই দেশের ভবিষ্যতের সবচেয়ে কার্যকর টেকসই বিনিয়োগ। এ ধরনের মানবিক ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে সমাজের বিত্তবান ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিএসআর তহবিলের মাধ্যমে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ-০১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং স্মাইল ট্রেন বাংলাদেশ ও নেপালের কর্মসূচি পরিচালক এ বি এম মোবাশ্বের হোসেন। আলোচকেরা জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চাইল্ড হেলথ্ এওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী প্রধান অধ্যাপক ডা. বিজয় কৃষ্ণ দাসের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. শামীম আরা খান চৌধুরী, বিশ্ব হাসি দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ডা. আসলামুল ইসলাম রুদ্র এবং নিউ লাইফ হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠা শিশু ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।
//ডিবিটেক/জেডইউ/এমভি/বিজিপি//





