দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রথম চালান, ডিসেম্বরের মধ্যে সরবরাহ শেষের লক্ষ্য
ফলোআপঃ রাতেই ঢাকায় আসছে রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি
- রাশিয়া থেকে জ্বালানিবাহী বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকায় পৌঁছানোর কথা শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায়।
- পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় আগের নির্ধারিত সময়ে চালানটি আসেনি।
- রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি চালানে জ্বালানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জ্বালানিবাহী বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, রাত সাড়ে ১১টায় বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কয়েক দফা সময় পরিবর্তনের পর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জানান, জ্বালানিবাহী বিমানটি রাশিয়া থেকে রওনা হয়েছে। ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করে এটি ঢাকায় পৌঁছাবে। বিমানবন্দরে চালান গ্রহণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিমানটি অবতরণের পর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় জ্বালানি পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে শনিবার, ৩ অক্টোবর, জ্বালানির চালানটি রূপপুরে পৌঁছাবে। পরিবহনের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
আকাশসীমার অনুমতি নিয়ে জটিলতা
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুরের জন্য পারমাণবিক জ্বালানিবাহী বিমানটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে পরিবহন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প রুট ও নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। <Cite refs={["turn552540search5","turn552540search18"]}/>
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংবেদনশীল এই পারমাণবিক জ্বালানি বিশেষ কার্গো বিমানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশে আনা হচ্ছে। এ ধরনের পরিবহনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
নয়টি চালানে আসবে জ্বালানি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের ভবিষ্যৎ রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি—মোট নয়টি চালানে জ্বালানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নতুন জ্বালানি সরবরাহ কমিশনিং কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে জ্বালানির চালান পৌঁছানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়া আলাদা ধাপ; উৎপাদনের আগে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।
প্রথম ইউনিটের নিরাপত্তা পরীক্ষা এগোচ্ছে
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে সেফটি ভালভের কারিগরি ত্রুটির কারণে কমিশনিং কার্যক্রমে বিলম্ব হয়েছিল। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি) ব্যবস্থার ১৬ মেগাপাস্কেল উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। তবে ইউনিটটিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায়ে নিতে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বাকি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি রিঅ্যাক্টর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট; পূর্ণ সক্ষমতায় দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
প্রথম ইউনিটের কমিশনিং পরীক্ষা সফল হলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ, জ্বালানি সরবরাহ ও কমিশনিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
//ডিবিটেক/ ডিএফআর/ বিভি/এসএমপি//





