পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: ভোকেশনাল এডুকেশন ও টিচার ট্রেনিং সেন্টার গঠন

চীন সরকারের ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষা স্কলারশিপের আবেদন কীভাবে?

  • ৩০ আগস্ট ২০২৬ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ও চীনের উচ্চপর্যায়ের শিক্ষা বিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে
  • কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে ভোকেশনাল এডুকেশন ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
  • তিন বড় প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধনের পাশাপাশি চীন থেকে আসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভিসা সহজ করার সিদ্ধান্ত

চীন সরকারের  ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষা স্কলারশিপের আবেদন কীভাবে?
৩০ আগষ্ট, ২০২৬ ১৭:৪৪  

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, গ্লোবাল ইঞ্জিনিয়ারিং লার্নিং এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশনের চাহিদা পূরণে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষা খাতে একটি নতুন কৌশলগত মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে "Strategic partnership between Bangladesh and China in the education sector" শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ দাউদ মিয়া এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৫-২৯ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের চীন সফরকে অত্যন্ত সফল হিসেবে অভিহিত করা হয়। সফরের অংশ হিসেবে 'চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার' প্রতিষ্ঠার জন্য একটি যৌথ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এই প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অধীনে দ্বিভাষিক শিক্ষাসামগ্রী, শিল্প-শিক্ষা সংযোগ (Industry-Academia Linkage), যৌথ গবেষণা ও বিশেষায়িত ভোকেশনাল ট্রেনিং দেওয়া হবে।

এছাড়া তিনটি বড় ডিজিটাল ও স্কিল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়েছে:  চীন–বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার; বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার ও বাংলাদেশ “চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+ স্কিল ডেভেলপমেন্ট” সহযোগিতা কেন্দ্র। 

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, চীনের অ্যাডভান্সড ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া মডেল বাংলাদেশেও প্রয়োগ করা হবে। পাশাপাশি চীনের ভাষা-শিক্ষক এবং বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুতগতির করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য Ministry of Education অথবা কূটনৈতিক সমন্বয়ের জন্য Ministry of Foreign Affairs ক্যাটাগরিগুলো ভূমিকা রাখবে।

প্রসঙ্গত, চীন সরকারের প্রদান করা ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষা স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া প্রধানত দুটি ধাপে সম্পন্ন করা যায়—১. কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর (DTE) / শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নোটিশের মাধ্যমে এবং ২. চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিল (CSC) বা সংশ্লিষ্ট চীনা কলেজের নিজস্ব পোর্টালের মাধ্যমে।

প্রাথমিক যোগ্যতা যাচাই

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি/এইচএসসি (ভোকেশনাল বা বিজ্ঞান) অথবা ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং বা সমমানের ডিগ্রি।
  • ইংরেজি বা চীনা ভাষার দক্ষতা: প্রোগ্রাম ভেদে IELTS/TOEFL, HSK স্কোর অথবা ইংরেজি মাধ্যমের প্রশংসাপত্র (Medium of Instruction - MOI)।

২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতকরণ

আবেদনের পূর্বে নিচের ডকুমেন্টসগুলো স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখতে হবে:

  • শিক্ষাগত সনদ ও মার্কশিট: নোটারি পাবলিক বা শিক্ষা বোর্ড/পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত।
  • পাসপোর্ট: ন্যূনতম ৬ মাস বা ১ বছর মেয়াদি বৈধ পাসপোর্ট।
  • স্টাডি প্ল্যান বা কভার লেটার: পড়াশোনার উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কিত বিবরণ।
  • মেডিকেল ফিটনেস ফরম (Foreigner Physical Examination Form): নির্ধারিত মেডিকেল ফরম পূরণ করে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারের স্বাক্ষর ও সিল সংবলিত।
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: অপরাধমুক্ত সংক্রান্ত প্রশংসাপত্র।
  • ইংরেজি আত্মপরিচয়মূলক ভিডিও (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে): ৩ মিনিটের একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন (কিছু নির্দিষ্ট ভোকেশনাল কলেজের জন্য)।

৩. আবেদনের অনলাইন ধাপসমূহ

পদ্ধতি এ: বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর (DTE)-এর মাধ্যমে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) 

বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ: কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর (DTE) বা কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে স্কলারশিপের নোটিশ প্রকাশিত হলে তা সংগ্রহ করতে হবে।

ফরম পূরণ: নির্ধারিত ফর্মের সাথে ১ থেকে ৩টি পছন্দের চীনা পলিটেকনিক/ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট এবং সাবজেক্ট (Technology) বাছাই করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনলাইন ডাটা এন্ট্রি: সংশ্লিষ্ট পলিটেকনিক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের স্বাক্ষরসহ আবেদনপত্র জমা দিতে হবে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত সরকারি পোর্টালে (যেমন: planningdte.onlinetvet.com) আপলোড করা হয়।

পদ্ধতি বি: সিএসসি (CSC) বা চীনা কলেজের পোর্টালে সরাসরি আবেদন

বিশ্ববিদ্যালয়/ইনস্টিটিউট নির্বাচন: স্কলারশিপ প্রদানকারী অনুমোদিত চীনা পলিটেকনিক বা ভোকেশনাল ইউনিভার্সিটির তালিকা চেক করুন।

CSC পোর্টালে নিবন্ধন: Campus China Portal বা CSC পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।

ক্যাটাগরি ও এজেন্সি নম্বর পূরণ: Type A (সরকারি/দূতাবাস মনোনীত) অথবা Type B (সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত) ক্যাটাগরি এবং কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের Agency Number ইনপুট দিতে হবে।

ডকুমেন্টস আপলোড ও সাবমিশন: তৈরি করা সমস্ত ডকুমেন্টস পোর্টালে আপলোড করে আবেদন সাবমিট করতে হবে।

৪. শর্টলিস্টিং, ইন্টারভিউ ও চূড়ান্ত নির্বাচন

  • প্রাথমিক যাচাইবাছাই শেষে শিক্ষার্থীদের ইমেইল বা অফিশিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার (Interview) বা অনলাইন ভাইভার জন্য ডাকা হতে পারে।
  • চূড়ান্ত নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউট থেকে Admission Notice এবং JW201/JW202 ফরম পাঠানো হয়।

৫. ভিসা আবেদন ও চীন যাত্রা

  • ভর্তি নিশ্চিতকরণ চিঠি ও JW201/JW202 ফরম নিয়ে বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসে স্টুডেন্ট ভিসার (X1/X2 Visa) জন্য আবেদন সম্পন্ন করতে হয়।
  • ভিসা অনুমোদনের পর ক্লাস শুরুর নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট চাইনিজ ক্যাম্পাসে রিপোর্ট করতে হয়।

//ডিবিটেক/এমআইএস/এসএমই/ওইডি//