অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে সনি ও ওয়ার্নারের মামলা

অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে সনি ও ওয়ার্নারের মামলা
৩০ আগষ্ট, ২০২৬ ০৯:৩৫  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণাগার ‘অ্যানথ্রোপিক’ এবং এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডারিও আমোদেই ও বেঞ্জামিন ম্যানের বিরুদ্ধে স্বত্বাধিকার বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি চুরির গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে সনি মিউজিক পাবলিশিং ও ওয়ার্নার চ্যাপেলসহ একাধিক শীর্ষ সংগীত প্রকাশক প্রতিষ্ঠান। 

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে দায়ের করা এই যৌথ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে টরেন্ট, ওয়েবসাইট স্ক্র্যাপিং এবং ডাউনলোডের মাধ্যমে হাজার হাজার সংরক্ষিত গান ও লিরিক্স হাতিয়ে নিয়ে এক নজিরবিহীন অভিযান চালিয়েছে। সংগীত খাতের বিশাল এই আইনি পদক্ষেপ প্রথম প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম ‘মিউজিক বিজনেস ওয়ার্ল্ডওয়াইড’।

দায়ের করা মামলায় প্রকাশকরা দাবি করেছেন, অ্যানথ্রোপিক তাদের জনপ্রিয় এআই মডেল ‘ক্লড’-কে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই হাজার হাজার গান ও লিরিক্স ব্যবহার করেছে, যা সুস্পষ্ট চুরির শামিল। 

তবে এই অভিযোগের মুখে নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরার কথা জানিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানটি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘টেকক্রাঞ্চ’-কে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় অ্যানথ্রোপিকের এক মুখপাত্র জানান, তারা প্রকাশকদের তোলা অভিযোগের সাথে একমত নন এবং আদালতে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের জন্য জোরালো আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি চুরির মামলা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ‘কনকর্ড মিউজিক গ্রুপ’ ও ‘ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপ’-এর পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলা এবং লেখকদের অধিকার রক্ষায় বহুল আলোচিত ‘বার্টজ বনাম অ্যানথ্রোপিক’ মামলায় যে আইনজীবীরা যুক্ত ছিলেন, তারাই সনি ও ওয়ার্নারের এই নতুন মামলাটি পরিচালনা করছেন। 

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক বার্টজ মামলায় বিচারকের রায়ে বলা হয়েছিল যে, এআই প্রশিক্ষণে কপিরাইটযুক্ত তথ্য ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও পাইরেসি বা অবৈধ উপায়ে সেই উপাদান সংগ্রহ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। ওই মামলায় অ্যানথ্রোপিককে দেড় শ কোটি ডলার জরিমানা গুনে রফা করতে হয়েছিল।

পূর্বের মামলাগুলোর চেয়ে নতুন এই মামলাটির পরিধি বেশ বিস্তৃত। নতুন মামলায় সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, অ্যানথ্রোপিক বিপুল পরিমাণ বই, গান ও লিরিক্স ধারণকারী শিট মিউজিকের অনুলিপি পেতে অবৈধ টরেন্ট নেটওয়ার্কের সাহায্য নিয়েছিল। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ্য পাইরেসির আশ্রয় নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। 

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সংগীত প্রকাশকদের এই সম্মিলিত আইনি পদক্ষেপ এআই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন নীতিগত কঠোরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অ্যানথ্রোপিকের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।    সূত্র: টেকক্রাঞ্চ