গ্রাহককে বিদ্যুতের উৎপাদক বানাতে বাজেটের ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

সৌরবিদ্যুত প্রযুক্তিতে ৫ বছরে ২ গিগাওয়াটের পরিকল্পনা

  • নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির সক্ষমতা আগামী পাঁচ বছরে ২ গিগাওয়াটে নেওয়ার বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ 
  • বাজেটে বরাদ্দ রাখা ২ হাজার কোটি টাকা ব্যবহার করে গ্রাহকদের বিদ্যুতের ভোক্তার পাশাপাশি সরাসরি উৎপাদকে রূপান্তর
  • স্মার্ট নেট মিটারিং, অনলাইন ডেটা মনিটরিং এবং বিশেষ অর্থায়ন কাঠামোর মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় করা

সৌরবিদ্যুত প্রযুক্তিতে ৫ বছরে ২ গিগাওয়াটের পরিকল্পনা
২৯ আগষ্ট, ২০২৬ ২০:৪৪  

জ্বালানি বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং প্রকৌশলবিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে আগামী পাঁচ বছরে দেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা দুই গিগাওয়াটে উন্নীত করার এক সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রযুক্তিভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নে চলতি বাজেটে থাকা ২ হাজার কোটি টাকা সরাসরি ব্যবহার করা হবে। একইসঙ্গে আধুনিক অনলাইন গ্রিড প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের কেবল বিদ্যুতের ভোক্তা না রেখে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদকে পরিণত করার যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

২৯ আগস্ট, শনিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর আওতাধীন পিকেএসএফসহ ২২টি ফাউন্ডেশনের ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

উপদেষ্টা জানান, বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি ও গ্রীন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে যাওয়া হচ্ছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশেষ অর্থায়ন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ২০ শতাংশ অর্থ দেবেন গ্রাহক বা উৎপাদক, ২০ শতাংশ দেবে একটি ‘অ্যাগ্রিগেটর’ প্রতিষ্ঠান এবং বাকি ৬০ শতাংশ সরকারি ঋণ হিসেবে সরবরাহ করা হবে। এতে কার্যকর সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে নেমে আসবে। বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) ও বিআইএফসির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এ অর্থায়নে যুক্ত থাকবে।

ডিজিটাল ও সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর নেট মিটারিং ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে ৩০০টির বেশি অনলাইন আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সফলভাবে যুক্ত হয়েছে। এলএনজি আমদানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেখানে প্রতি ইউনিটে খরচ পড়ে প্রায় ৬৪ টাকা, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ চালুর মাধ্যমে ১ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সরকারি ভর্তুকি সাশ্রয় হবে।

তিনি আরও জানান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর এই কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশজুড়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে সাইবার গ্রিড ট্র্যাকিং ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতে টেকসই পরিবর্তন আনবে।
//ডিবিটেক/ বিএনটিও/এসএমপি/এমআইএসটি//