এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম ও সৃজনশীল শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর অপব্যবহার ও নৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্বশীল এআই ব্যবহারের পক্ষে এবং এ প্রযুক্তি যেন সৃজনশীলতার সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
১৪ মে,বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত ‘চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন পরিবেশনা ও বিপণনে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য বিস্তার রোধ কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণে এআই প্রযুক্তি ইতিবাচক উদ্ভাবনের হাতিয়ার হতে পারে। তবে প্রযুক্তিটির ব্যবহার যেন গুজব, অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরির মাধ্যম না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন। এ সময় বিসিটিআই পরিচালিত চারটি কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ড. মো. আলম মোস্তফা এবং রওনক জাহান।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়–এর শিক্ষক লাবিব নাজমুস ছাকিব। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে ডি-এজিং, ভার্চুয়াল প্রোডাকশন এবং ভয়েস ক্লোনিংয়ের মতো এআই প্রযুক্তির সম্ভাবনার পাশাপাশি লেখকত্ব, কনটেন্ট মালিকানা ও সেন্সরশিপের নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনায় বক্তারা ডিপফেক, ভুয়া ভিডিও এবং এআইচালিত বটের মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ফ্যাক্ট-চেকিং টুল, অ্যালগরিদমিক শনাক্তকরণ এবং ডিজিটাল ভেরিফিকেশন ব্যবস্থায় এআই-এর ইতিবাচক ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রবীণ চলচ্চিত্র পরিচালক রফিকুজ্জামান বলেন, সিনেমার মূল শক্তি মানুষের অনুভূতি ও সৃজনশীলতা। তাই মূলধারার চলচ্চিত্রে এআই ব্যবহারে অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ড. শাহ মো. নিস্তার জাহান কবীর, রফিকুল আনোয়ার রাসেল, আল আমিন রাকিব তনয় এবং মনজুরুল হক সালেহ।
ডিবিটেক/এসআই/এমইউএম



