পেপ্যালকে কিনে নেওয়ার দৌড়ে স্ট্রাইপ
অনলাইন লেনদেন সেবাদাতা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পেপ্যালকে কিনে নিতে আলোচনা শুরু করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইপ এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারী সংস্থা অ্যাডভেন্ট ইন্টারন্যাশনাল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে পেপ্যাল কিনে নেওয়ার জন্য প্রতি শেয়ারে ৬০ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার প্রস্তাব করেছিল তারা। সেই হিসাবে পেপ্যালের সামগ্রিক বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি বা ৫৩ বিলিয়ন ডলার। তবে সে সময় পেপ্যাল কর্তৃপক্ষ সেই প্রস্তাব অপ্রতুল মনে করে তা ফিরিয়ে দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবটি পাওয়ার আগে পুঁজিবাজারে পেপ্যালের শেয়ারের দর স্মরণকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল। মহামারির সময়ে পেপ্যালের বাজারমূল্য সর্বোচ্চ প্রায় ৩২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও পরবর্তী সময়ে তা নেমে দাঁড়ায় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারে।
তবে প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলেও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা থেমে থাকেনি। বর্তমানে শেয়ারের দাম আরও বাড়িয়ে নতুন চুক্তির বিষয়ে দরকষাকষি চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেগা চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে।
যৌথ মালিকানা ও বিশাল বাজারের নিয়ন্ত্রণ
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে স্ট্রাইপ এবং অ্যাডভেন্ট ইন্টারন্যাশনাল উভয়েই পেপ্যালের সমান অংশীদারিত্ব পাবে। পেপ্যালকে ভেঙে ফেলা বা আলাদা করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই; বরং এটিকে যৌথভাবে পরিচালনা করা হবে।
এই অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে স্ট্রাইপ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অনলাইন পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। যৌথ এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি বা ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ লেনদেন পরিচালিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যবসা গুছিয়ে আনতে চলতি বছরের মার্চে পেপ্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন এনরিক লোরেস। তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে তিনটি পৃথক বিভাগে বিন্যস্ত করেন- চেকআউট, ভেনমো এবং পেমেন্টস ও ক্রিপ্টো। তবে নতুন এই সম্ভাব্য অধিগ্রহণের ফলে পেপ্যালের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে কী পরিবর্তন আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বাজারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সুবিধা
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রাইপ ও পেপ্যালের এই সম্ভাব্য একত্রীকরণ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট খাতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে। এর ফলে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের ওপর স্ট্রাইপের যে নির্ভরতা রয়েছে, তা অনেকাংশে কমে আসবে।
একই সঙ্গে পেপ্যালের জনপ্রিয় পেমেন্ট ব্যবস্থা ভেনমো, তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত চেকআউট প্ল্যাটফর্ম এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত সুবিধাগুলো সরাসরি নিজেদের সেবায় যুক্ত করার সুযোগ পাবে স্ট্রাইপ।
তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা সফল চুক্তিতে রূপ নেবে নাকি ভেস্তে যাবে, তা দেখতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট





