রবির মামলায় শেয়ার বিজকে হাইকোর্টের নির্দেশ
সংবাদের প্রতিবাদ: ডিজি বাংলার অবস্থান
১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ‘রবির মামলায় শেয়ার বিজকে হাইকোর্টের নির্দেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের বিষয়ে জনাব মোহাম্মদ মারুফুল আলম চৌধুরী এবং শেয়ার বিজ কর্তৃপক্ষের উত্থাপিত বক্তব্য ও আপত্তিসমূহ আমরা গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করেছি। উভয়ের মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা স্পষ্ট করতে চাই যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা, সুনাম ক্ষুণ্ন করা বা পক্ষপাতমূলক অবস্থান গ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়নি। এটি ছিল আদালতের কার্যক্রম ও বিচারিক নির্দেশনা সম্পর্কিত তথ্যভিত্তিক সংবাদ।
প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপিত তথ্য, বিচারিক নথি এবং চলমান আইনি কার্যক্রমের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রবি আজিয়াটা পিএলসি ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সংশ্লিষ্ট মামলায় শেয়ার বিজসহ কয়েকটি পক্ষের নাম এসেছে এবং এ বিষয়ে হাইকোর্ট একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দিয়েছেন। এসবই বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং আদালতের নথিভুক্ত তথ্য।
জনাব মোহাম্মদ মারুফুল আলম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে ২৯ জুলাই ও ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ১৩ আগস্টের প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য ছিল না পূর্ববর্তী প্রকাশনার তথ্যগত ভিত্তি যাচাই করা; বরং সেসব প্রকাশনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আইনি কার্যক্রম ও আদালতের নির্দেশনা সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা। প্রতিবেদনে জনাব চৌধুরীকে কোনো তথ্যের উৎস, লেখক বা অভিযোগের জন্য দায়ী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো স্বতন্ত্র অভিযোগও আনা হয়নি।
শেয়ার বিজের উত্থাপিত আপত্তির ক্ষেত্রেও আমাদের অবস্থান একই। প্রতিবেদনে কোনো পক্ষের দাবি বা বক্তব্যকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়নি। সংবাদটির মূল ভিত্তি ছিল আদালতের আদেশ ও বিচারিক প্রক্রিয়া। কোনো পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুপস্থিত থাকা বা কোনো প্রক্রিয়াগত বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা থাকা সংবাদটির তথ্যগত ভিত্তিকে অস্বীকার করে না। আমরা যে বক্তব্য ও তথ্য পেয়েছি, তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত করেছি।
ফোনালাপ, বক্তব্য গ্রহণের পদ্ধতি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে উত্থাপিত আপত্তিগুলোও প্রতিবেদনের মূল তথ্যকে খণ্ডন করে না। বিচারিক বা সংবাদগত প্রেক্ষাপটে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরোপ করা এক নয়। আমাদের প্রতিবেদনে এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে বজায় রাখা হয়েছে।
আমরা বিশ্বাস করি, বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে নিরপেক্ষ, সংযত ও তথ্যনির্ভরভাবে অবহিত করা। পাশাপাশি কোনো পক্ষের দাবি বা অবস্থানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করাও সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে সেই নীতিই অনুসরণ করা হয়েছে।
তাই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ‘যাচাইহীন’, ‘একপেশে’, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বা ‘মানহানিকর’ হওয়ার অভিযোগের সঙ্গে আমরা একমত নই। সংবাদটি আদালতের কার্যক্রম ও উপলব্ধ নথিপত্রের ভিত্তিতেই প্রকাশিত হয়েছে এবং এর তথ্যগত ও সাংবাদিকতাগত ভিত্তির প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ যদি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য, উদ্ধৃতি বা বক্তব্যের ভুল প্রমাণে প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপন করে, তাহলে সাংবাদিকতার নীতি অনুসারে আমরা তা বিবেচনা করতে প্রস্তুত।
ডিজি বাংলা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেয় না। যাচাইযোগ্য তথ্য, প্রাসঙ্গিক বিচারিক কার্যক্রম এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় পাঠকের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনও সেই নীতির আলোকে প্রকাশিত হয়েছে এবং এর যথার্থতার প্রতি আমাদের আস্থা অব্যাহত রয়েছে।





