বনানী কাঁচাবাজারে উদ্বোধন 

বাংলা কিউআরে ক্যাশলেস লেনদেন আরও সহজ

  • বাংলা কিউআরে লেনদেনে মার্চেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিক হিসাবে জমা হবে।
  • দুই হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে প্রণোদনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
  • সেপ্টেম্বরে দৈনিক গড় লেনদেন ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে।

বাংলা কিউআরে ক্যাশলেস লেনদেন আরও সহজ
১ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০০  

ক্যাশলেস অর্থনীতির বিস্তার ত্বরান্বিত করতে বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ব্যবস্থায় ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পরিশোধ করা অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে মার্চেন্টের হিসাবে জমা হওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত ফি কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি বা আইআরএফ শূন্য করা হয়েছে।

১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানী কাঁচাবাজারে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে পণ্য কেনাকাটার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে বাংলা কিউআরভিত্তিক ফিনটেক সেবার উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় তিনি বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ক্যাশলেস বাংলাদেশ ও ডিজিটাল অর্থনীতি গড়তে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনে কোনো ফি বা চার্জ লাগবে না। সরকারের এই উদ্যোগের আওতায় কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন হবে এবং এর জন্য অতিরিক্ত কোনো চার্জ বা ফি দিতে হবে না।

তিনি জানান, ফুচকা বিক্রেতা, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল আর্থিক সেবার আওতায় আনা হবে। এই ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ থেকে ফুটপাতের বিক্রেতা বা ছোট ব্যবসায়ী—যেকোনো ব্যাংক কিংবা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের হিসাবে সহজেই কিউআর কোড ব্যবহার করে টাকা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে নগদ টাকা বহনের প্রয়োজন কমবে এবং লেনদেন আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ছোটখাটো কারিগরি চ্যালেঞ্জ বা সাময়িক সমস্যা দেখা দিলেও তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বিশ্বের বহু উন্নত ও দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে ক্যাশলেস লেনদেন কার্যকর হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকও এই আন্তর্জাতিক চর্চাকে দেশে সর্বজনীন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

দেশের সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী ও সেবা প্রদানকারীদের কোনো দ্বিধা ছাড়াই ক্যাশলেস ও নিরাপদ অর্থনৈতিক বাংলাদেশ গড়ার সরকারি উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পরিশোধ করা অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে। একই সঙ্গে অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর তুলে দেওয়া হয়েছে এবং ইস্যুইং প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি বা আইআরএফ শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ আগস্টের নির্দেশনাতেও ১ অক্টোবর থেকে আইআরএফ শূন্য করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।

এ ছাড়া মার্চেন্ট পয়েন্টে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাংলা কিউআর লেনদেনে অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুইং প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্রণোদনা জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ বা এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাংলাদেশ ব্যাংক ২৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রণোদনা সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিধি আরও বাড়াতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি বা পিটুপির লেনদেনও চালু হবে। তখন ব্যবহারকারীরা অংশগ্রহণকারী ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের অ্যাপের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অথবা সংরক্ষিত কিউআর কোডের ছবি আপলোড করে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনের দৈনিক গড় সংখ্যা জুনের প্রায় ১ লাখ থেকে সেপ্টেম্বরে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজারে উঠেছে। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা ও পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্ট পয়েন্ট বাংলা কিউআর ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বাংলা কিউআরকে নিরাপদ ও ক্যাশলেস ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছে।
//ডিবিটেক/এসকেআর/এসএমপি/এমআর/এন/