ওমান-বাংলাদেশ প্রযুক্তি ও যৌথ গবেষণার নতুন দিগন্ত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টরে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার প্রস্তাব
- ওমান-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এআই, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃষি প্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর গবেষণায় সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত
- কৃষিতে বিশেষ ড্রোন ব্যবহার, নিজস্ব এলএলএম তৈরি এবং ডেটা নিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়
- গবেষক ও স্টার্টআপদের পারস্পরিক সফর বৃদ্ধি এবং সেপ্টেম্বর ইনোভেশন ফেয়ারে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন এবং বিজ্ঞান গবেষণায় পারস্পরিক সহায়তা বাড়াতে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন। অন্যদিকে ওমানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন Innovation Park Muscat-এর Star Drones-এর চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) এবং সৌদি আরাবিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি Said Abdul Ghafoor Saif Udeen।
আলোচনায় ওমানের প্রতিনিধি দল তাদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি তুলে ধরে জানায়, তারা নিজস্ব লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) উন্নয়ন এবং ডেটা সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্ভাবনগুলোতে অর্থায়নের জন্য তাদের একটি স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড রয়েছে। বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের প্রযুক্তিগত স্বাবলম্বিতা অর্জনে নিজস্ব প্রযুক্তি ও ডাটা সেন্টার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়।
ওমানি প্রতিনিধিরা জানান, তাদের দেশে হাজার হাজার একর জমিতে ড্রোনের মাধ্যমে কীটনাশক ছিটানো সফল হয়েছে। বাংলাদেশের কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং অগ্নি-নিরাপত্তা খাতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
বৈঠকে আইসিটি ও প্রকৌশল খাতে দেশের বিশাল তরুণ জনশক্তির কথা উল্লেখ করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ও রোবোটিক্স নিয়ে জোরদার কার্যক্রম চলছে। সেমিকন্ডাক্টর চিপ ডিজাইন, গবেষণা এবং স্থানীয় যুবসমাজকে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণে ওমানের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
এছাড়াও কৃষি, খাদ্য ও চিকিৎসা প্রযুক্তি স্থানান্তরের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি যৌথ গবেষণার প্রস্তাব আনা হয় বৈঠকে ।
লবণাক্ততা ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধী ধান: বাংলাদেশে লবণাক্ততা প্রতিরোধী ধান এবং ডায়াবেটিস রোগীদের উপযোগী বিশেষ চাল নিয়ে যৌথ গবেষণায় আগ্রহ প্রকাশ করে ওমান।
খাদ্য সংরক্ষণ: কাঁঠাল ও আনারসের মতো ফল দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণে প্রযুক্তিগত গবেষণার সিদ্ধান্ত হয়।
পুষ্টি ও স্বাস্থ্য: বিসিএসআইআর (BCSIR)-এর চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ জানান, তাদের প্রস্তুতকৃত ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ বিশেষ শিশুখাদ্য ওমান ও আফ্রিকায় ব্যবহারের উপযোগী।
রেড পাম উইভিল দমন: ওমানের খেজুর গাছের ক্ষতিকর পোকা দমনে যৌথ গবেষণার প্রস্তাবে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরির কথা জানানো হয়।
বৈঠক সূত্রে প্রকাশ, আগামী সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ন্যাশনাল ইনোভেশন ফেয়ার’-এ ওমানি দলকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব। আলোচনার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন ও নিয়মিত যোগাযোগের জন্য উভয় পক্ষ হতে দ্রুত ফোকাল পয়েন্ট/প্রতিনিধি নির্ধারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক, ড. সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী, ওমানের Star Drones-এর সিটিও Bassim Allah Bakhsh Ghulam Al-Zadjali, বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঈনুল ইসলাম এবং সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/এএএম/এনএএম//





