১৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন ও উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ইউনিটপ্রতি ১০.৫০ টাকায় কেনার ঘোষণা
আগামী গ্রীষ্মের আগেই গ্রিডে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর
- আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- সৌরবিদ্যুৎ খাতে ১৫০০ কোটি টাকার প্রাথমিক তহবিল বরাদ্দ এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকায় কেনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে
- ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০% বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যক্ত করা হয়
আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’ প্রতিপদ্যে শুরু হওয়া এই এক্সপো’র উদ্বোধনীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে অর্থায়ন সহজ করতে সরকার প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেছে।
বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’। একই সাথে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় নিজস্ব ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যারা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সরকার তাদের কাছ থেকে স্থানান্তরিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনে নেবে। এছাড়া সৌরপ্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনে শুল্ক সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। অতীতে কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী পন্থায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
এক্সপোতে মেধাবী তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বাজেটে স্টার্টআপের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্পগুলোকে পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত সেচপাম্পে রূপান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব মিরানা মাহরুখসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী এবং ৮ হাজারের বেশি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও প্রবাসীদের নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
//ডিবিটেক/জেএনও/এসএমই/এমআইএসটি//





