সৌরবিদ্যুৎ, ক্রয় ও নিরাপত্তা
সৌরবিদ্যুৎ ও ক্রয় আইনে মন্ত্রিসভার অনুমোদন
- বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় অনুমোদন
- ২০২৭ সালে কার্যকর সরকারি ছুটি ২২ দিন
- হংকংয়ের সঙ্গে অপরাধ তদন্তে আইনি সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদন
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণ, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং অর্থপাচারসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তে হংকংয়ের সঙ্গে আইনি সহযোগিতার পথ তৈরিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই বৈঠকে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকাও অনুমোদন করা হয়েছে। আগামী বছর সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে মোট ২৯ দিন ছুটি থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় কার্যকর সরকারি ছুটি হবে ২২ দিন।
২ নভেম্বর, সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সিদ্ধান্তগুলোর বিস্তারিত জানান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।
বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন অনুমোদন
বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আইনটির খসড়া বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তার নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ১ দফার অধীনে জারি করা অধ্যাদেশটি একই অনুচ্ছেদের ২ দফা অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপন করতে হবে। অধ্যাদেশটিকে সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করার উদ্দেশ্যেই নতুন আইনের খসড়া অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় তোলা হয়।
লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে খসড়াটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অধ্যাদেশটিকে স্থায়ী আইনি কাঠামোয় রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
সরকারি ক্রয় আইনে দ্বিতীয় সংশোধন
‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াতেও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংশোধনীর খসড়া উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সম-আচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন এখন পর্যন্ত ছয় দফা সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়।
নতুন সংশোধনীতে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য নতুন, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী দরপত্রদাতা এবং সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালি আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বিস্তারে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির অধিকতর প্রয়োগ, পেশাগত অসদাচরণসংক্রান্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয়ব্যবস্থা চালুর বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তরের উদ্দেশ্যে বিল আকারে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে উপস্থাপন করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রণীত ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) এবং আইএমইডির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে মন্ত্রিসভা খসড়াটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
২০২৭ সালে কার্যকর সরকারি ছুটি ২২ দিন
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় ১৫ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে ছুটি ২৯ দিন। তবে এর মধ্যে সাত দিন শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় কার্যকর ছুটি থাকবে ২২ দিন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। এর মধ্যে চার দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে—দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার।
এ ছাড়া বাংলা নববর্ষ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ১৪ দিন ছুটি থাকবে। এর মধ্যে তিন দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে—একটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার।
সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় কর্মরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীরা বৈসাবি বা অনুরূপ প্রধান সামাজিক উৎসব উদযাপনে দুই দিন ঐচ্ছিক ছুটি পাবেন।
হংকংয়ের সঙ্গে অপরাধ তদন্তে আইনি সহযোগিতা
অর্থপাচারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে হংকংয়ের সঙ্গে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। চুক্তিটির নাম ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স এগ্রিমেন্ট ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস’।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, এটি বন্দি বিনিময় বা অপরাধী প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি নয়। বরং অপরাধ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনি সহযোগিতা পাওয়ার জন্য চুক্তিটি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো অপরাধী অপরাধ সংঘটনের পর হংকংয়ে পালিয়ে গেলে বা সেখানে অবস্থান করলে এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ হংকংয়ের কাছে আইনি সহায়তা চাইতে পারবে। বিশেষ করে অর্থপাচারসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত ও দমনে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
হংকং চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল। এর বিচারব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়া ভিন্ন হওয়ায় চীনের পাশাপাশি হংকংয়ের সঙ্গে আলাদাভাবে চুক্তি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং অপরাধ তদন্তে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।
ভূমিকম্প মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির নির্দেশ
এদিকে সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় ঝুঁকি কমাতে আগাম প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সভার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান। সভায় প্রধানমন্ত্রী রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা এবং নতুন ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, উদ্ধার সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিকম্পবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/আইকিউবি/এসএমই/এমআইএসটি//





