দেশে কখন কোথায় দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ

দেশে কখন কোথায় দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ
৩ মার্চ, ২০২৬ ১০:৪৮  

২০২৬ সালের অন্যতম আকর্ষণীয় জ্যোতিরবৈজ্ঞানিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে ৩ মার্চ।  এ দিন পূর্ণিমা‘র সঙ্গে দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণও। মঙ্গলবার রাতে আকাশে দেখা যাবে ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হবে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে। 

বিশেষ এই রক্তিম চাঁদ দেখতে আকাশে যদি চোখ না রাখা যায়, তবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

নাসা’র তথ্য বলছে, সন্ধ্যায় চাঁদ সবচেয়ে ভালোভাবে চাঁদ দেখা যাবে উত্তর আমেরিকার আকাশে। বিশেষ করে এই অঞ্চলের পশ্চিম উপকূল থেকে স্পষ্ট দেখা যাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে। এছাড়া এটি কিংম্যান রিফ জাতীয় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, হাওল্যান্ড দ্বীপ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং মাইক্রোনেশিয়ার কোসরাই দ্বীপ ও লুগাও অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে।

তবে বাংলাদেশ থেকেও দেখা যাবে এই বিরল দৃশ্য। ৩ মার্চ, মঙ্গলবার  দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে চাঁদ উপচ্ছায়ায় প্রবেশের মাধ্যমে গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এবং কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.১১৫।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে প্রকাশ, বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের পর থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গ্রহণের শেষ অংশ দেখা যাবে। বিভাগীয় শহরগুলোতে গ্রহণ শুরুর সময় নিম্নরূপ:

ঢাকা : সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ১২ সেকেন্ড।
চট্টগ্রাম : বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড।
সিলেট : বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।
রাজশাহী : সন্ধ্যা ৬টা ০৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড।
খুলনা : সন্ধ্যা ৬টা ০৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড।
বরিশাল : সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড।
ময়মনসিংহ : সন্ধ্যা ৬টা ০০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড।
রংপুর : সন্ধ্যা ৬টা ০৪ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড।

আর, রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে উপচ্ছায়া থেকে চাঁদের নির্গমনের মাধ্যমে গ্রহণটি পুরোপুরি শেষ হবে।

প্রসঙ্গত, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান নেয়, ফলে সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে পারে না। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পড়ে। বায়ুমণ্ডল নীল আলোর ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি বিচ্ছুরিত করে এবং লাল আলোর দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্য চাঁদের দিকে যেতে দেয়। এ কারণেই গ্রহণের সময় চাঁদ তামাটে বা লালচে দেখায়।
ডিবিটেক/এসএইচ/ইকে