পিএইচপি নিরাপত্তা ত্রুটির শঙ্কায় বন্ধ ছিল কার্যক্রম; ঝুঁকি কাটিয়ে অনলাইন উপস্থিতি স্বাভাবিক
চার দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সচল
- জরুরি নিরাপত্তা ও কারিগরি ঝুঁকি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে টানা চার দিন বন্ধ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পোর্টাল
- পাসওয়ার্ডহীন রিমোট কোড এক্সিকিউশন ত্রুটির সতর্কতায় সাময়িক স্থগিত ছিল বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাইটও
- এটুআই নিশ্চিত করেছে—জাতীয় বাতায়নের ৩৬,৫০০ পোর্টাল পিএইচপিনির্ভর নয়, বৈশ্বিক সতর্কতায় ফ্রান্স-নেদারল্যান্ডস
সার্ভারের জরুরি নিরাপত্তা পর্যালোচনা ও বৈশ্বিক সাইবার ঝুঁকি বিশ্লেষণের অংশ হিসেবে টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় সচল হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট। ২৫ অক্টোবর রবিবার সকাল ৮টা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই মূল তথ্য বাতায়নটিতে সাধারণ ব্যবহারকারী ও গ্রাহকরা পুনরায় স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করতে পারছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জরুরি নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা এবং সামগ্রিক ঝুঁকি পর্যালোচনার স্বার্থে গত বৃহস্পতিবার থেকে ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই এটি পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পোর্টালে (bb.org.bd) প্রবেশ করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েন ব্যবহারকারীরা। সে সময় সাইটে প্রবেশের চেষ্টা করলে একটি বার্তা প্রদর্শিত হতো, যাতে কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance) কার্যক্রম চলার কথা জানানো হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি (PHP)-এর কোর ইঞ্জিনে শনাক্ত হওয়া সাম্প্রতিক বৈশ্বিক নিরাপত্তা দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষাব্যবস্থা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখছিলেন প্রযুক্তিবিদরা। একই ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে পিএইচপিনির্ভর বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ওয়েবসাইটও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিএইচপির এই স্পর্শকাতর নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে কোনো ধরনের পাসওয়ার্ড বা অনুমোদন ছাড়াই বহিরাগত আক্রমণকারীরা দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত কোড বা নির্দেশনা কার্যকর (RCE) করতে পারে। এর ফলে সার্ভারে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ফাইল, কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ ও স্পর্শকাতর তথ্য বেহাত হওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়। বৈশ্বিক এই নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের মতো ইউরোপীয় দেশের বিভিন্ন সংবেদনশীল সরকারি প্রতিষ্ঠানও সমজাতীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এদিকে সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের পক্ষ থেকে পুনরায় আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, সরকারি সেবা কাঠামোর আওতাধীন ‘ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্ক’-এর প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি সরকারি ওয়েবসাইট পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় তৈরি না হওয়ায় সেগুলো এই বিশেষ ত্রুটির আওতামুক্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।
//ডিবিটেক/এএসও /এসএমই/এমভিএনও//





