ক্যাম্পাসে অন্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালুর প্রতিবাদে ৪ দফা দাবিতে তোলপাড়
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
- সাভারের ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে অন্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালুর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছেন
- বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষায় ৪ দফা দাবি জানিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান ও নানা স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা
- ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ
ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়ায় অবস্থিত দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলন ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন, সফটওয়্যার ও আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষায় বিশেষ স্থান করে নেওয়া এই ক্যাম্পাসটির স্বকীয়তা ও অস্তিত্ব রক্ষায় শিক্ষার্থীরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার,সন্ধ্যা ৬টা থেকে ক্যাম্পাসটির ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে এই আন্দোলন শুরু করেন। রাত ১০টার পরও সেখানে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩ নম্বর একাডেমিক ভবনে 'এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব বিজনেস টেকনোলজি' নামের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ আরেকটি প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। এমনকি ভর্তি অফিসে আলাদা কক্ষ এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো হয়। শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অফিস, ব্র্যান্ডিং অফিস, প্রক্টর, এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স, রেজিস্ট্রার ও প্রো-ভিসি কার্যালয়ে গিয়ে এর অনুমোদন সংক্রান্ত সদুত্তর না পেয়ে আন্দোলনের পথ বেছে নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব রক্ষায় শিক্ষার্থীরা ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন।
দাবিগুলো হলো:
- ক্যাম্পাসে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
- ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতাসম্পন্ন, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক ব্যক্তিদের প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োগ দিতে হবে।
- অন্য প্রতিষ্ঠানকে ৩ মাসের জন্য অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্তে জড়িতদের বহিষ্কার আদেশসহ ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি ই-মেইল ও অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।
- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে সরিয়ে নিতে হবে এবং এ বিষয়ে অফিশিয়াল নোটিশ প্রকাশ করতে হবে।
প্রসঙ্গটি নিয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে দেশের বাইরে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আর কবির গণমাধ্যমকে জানান যে, প্রশাসনের সঙ্গে কোথায়ও ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। কেননা সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন বা UGC-এর অনুমোদন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালানো যায় না। তিনি জানান যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে অবগত হয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ওই প্রতিষ্ঠানের কাউন্সিলর হাবিবা জামান দাবি করেছেন যে শুধু ভর্তি কার্যক্রম সাভারে পরিচালিত হলেও পরে নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়ে মূল একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে। তবে শিক্ষার্থীরা এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রিত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকি মনে করছেন।
//ডিবিটেক/ করেসপন্ডেন্ট/ইডিপি//





