চাঁদা দাবির পর ডিডিএন কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি জানাল সিএমপি
ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হামলায় আটজন গ্রেফতার
- চাঁদা দাবির পর ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা
- অভিযানে আটজন গ্রেপ্তার, পলাতকদের খোঁজ চলছে
- কোটি টাকার চাঁদা দাবির অভিযোগে তদন্ত জোরদার
দেশের ডিজিটাল সংযোগসেবা ও ইন্টারনেট অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে চট্টগ্রামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবির পর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। গ্রেফতার ব্যক্তিরার হলেন— মো. ইউনুস (৪১), ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১), আকবর হোসেন (২৪), মো. সুমন (২৭), মো. মনির ওরফে কেহেরমান (৩৮), মো. গিয়াস উদ্দিন (২১), মো. নয়ন (২০) এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ (২৮)।
১৫ জুলাই, বুধবার বিকেলে মামলার অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, ১৪ জুলাই, মঙ্গলবার রাতভর নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিএমপির একাধিক টিম, চকবাজার থানা পুলিশ ও র্যাব-৭ যৌথভাবে তাদের গ্রেফতার করে। গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপ কলে ‘ডেবিড ইমন’ পরিচয়ে ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর স্বত্বাধিকারীর কাছে প্রথমে দুই কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
তিনি বলেন, চাঁদার দাবি প্রত্যাখ্যান করলে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এর দুই দিন পর, ১৩ জুলাই দুপুরে চকবাজার থানার মনুমিয়াজী লেইনের মরিয়ম হাইটস ভবনে অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায়।
হামলাকারীরা অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মালামাল নষ্ট করে। পাশাপাশি নগদ ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অরিফুল ইসলামের ব্যাগ লুট করে নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. ইউনুসের বিরুদ্ধে পাঁচটি, ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি, মো. সুমনের বিরুদ্ধে ছয়টি, মো. মনির ওরফে কেহেরমানের বিরুদ্ধে সাতটি এবং মো. নয়নের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
//ডিবিটেক/ বিএনও/ এসএমআই//





