এআই হ্যাকাথনে ঢাকার বৈশ্বিক স্বপ্ন 

ঢাকায় আন্তর্জাতিক এআই হ্যাকাথনের পরিকল্পনা, তরুণ উদ্ভাবকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ

  • ঢাকায় এআই হ্যাকাথনের পরিকল্পনা ঘোষণা।
  • স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনে তরুণদের উৎসাহ।
  • বৈশ্বিক এডটেক অ্যাপের অগ্রগতি তুলে ধরা।

ঢাকায় আন্তর্জাতিক এআই হ্যাকাথনের পরিকল্পনা, তরুণ উদ্ভাবকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১১:১৫  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্টার্টআপ উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক এআই হ্যাকাথন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

১৪ জুলাই, মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের পর এটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার দ্বিতীয় সফর।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ডান পাশে ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বাম পাশে ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) রেহান আসিফ আসাদ এবং আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।

সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও হাত নেড়ে তাকে অভিবাদন জানান। ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন আগামী দিনের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। এসব খাতে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক নেতৃত্বের অবস্থানে নিতে সরকার বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ এবং শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যেই ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি এআই হ্যাকাথন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, উদ্ভাবক এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা অংশ নিতে পারবেন।

এর আগে গত ১২ মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Transforming Higher Education in Bangladesh: Roadmap to Sustainable Excellence’ শীর্ষক কর্মশালায় অংশ নেন। সেখানে উচ্চশিক্ষার আধুনিকায়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

এদিনের আলোচনায় বক্তব্য দেন এডটেক স্টার্টআপ ‘চর্চা অ্যাপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা রায়হানুল ইসলাম। তিনি জানান, চলতি সপ্তাহেই তাদের একটি বৈশ্বিক এআই-সমর্থিত শিক্ষা অ্যাপ উন্মোচন করা হবে, যা বিশ্বের ১৫৭টি দেশের প্রায় ২০ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য তৈরি করা হয়েছে।

উপস্থাপনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, “এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কি শিক্ষাকে আরও আনন্দময় করা সম্ভব?”

জবাবে রায়হানুল ইসলাম বলেন, তাদের প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এক বছর আগে অ্যাপটির উন্নয়ন শুরু হয়। পরবর্তীতে রাজশাহীর দুটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের মাধ্যমে শতাধিক শিক্ষক এবং পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর শেখার সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এআই হ্যাকাথন, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা এবং স্টার্টআপ সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা প্রযুক্তি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
//ডিবিটেক/ আইএইচ/ এমআইএস//