নজরুলচর্চায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, গবেষণা, প্রকাশনা ও পাঠ্যপুস্তকে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা।

নজরুলচর্চায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
১২ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৪  

পাঠ্যপুস্তক, গবেষণা, প্রকাশনা এবং গণমাধ্যমের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও সৃষ্টিকর্মকে দেশ-বিদেশে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নজরুল গবেষক, শিল্পী, কবি ও আবৃত্তিশিল্পীরা।


১২ জুলাই, রবিবার রাজধানীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সম্মিলন ও মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব সুপারিশ তুলে ধরেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনকে বৈশ্বিক পরিসরে ছড়িয়ে দিতে ডিজিটাল আর্কাইভ, অনলাইন শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে বাস, ট্রেন, বিমানসহ গণপরিবহন এবং বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে নজরুলের গান ও সৃষ্টিকর্ম প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়।

তারা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নজরুল প্রতিভা অন্বেষণ, কর্মশালা, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিদেশে ‘নজরুল কালচারাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, গান, কবিতা ও নৃত্যের পাশাপাশি যন্ত্রসংগীত, সেমিনার, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে নজরুলের শুদ্ধ বাণী ও সুরের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ‘নজরুল বর্ষ’-এর কর্মসূচিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।

সভায় নজরুলের সৃষ্টিকর্মের ডিজিটাল সংরক্ষণ, অনলাইনভিত্তিক গবেষণা প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যমে প্রচার বৃদ্ধি, জনপরিসরে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, নজরুল কালচারাল মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা এবং ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে একটি থিম সং তৈরির প্রস্তাবও উঠে আসে। প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি উদীয়মান শিল্পীদের জন্যও সমান অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিল্পী ও গবেষকদের মতামত শোনেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশকে মাদক, মৌলবাদ ও উগ্রবাদমুক্ত করতে সংস্কৃতি ও শিক্ষার বিকল্প নেই। প্রাথমিক স্তর থেকেই কাজী নজরুল ইসলামের গান, কবিতা ও সাহিত্য পাঠ্যপুস্তকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬–২০২৭’ উপলক্ষে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্পী ও গবেষকদের পরামর্শের ভিত্তিতে এসব কর্মসূচিকে আরও জনসম্পৃক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও ফলপ্রসূভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

সম্মিলনে দেশের বিভিন্ন মাধ্যমের প্রায় ৪০০ জন কণ্ঠশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী ও নজরুল গবেষক অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল, ইয়াকুব আলী খান, গাজী আব্দুল হাকিম, সীমা ইসলাম, লুবনা মারিয়াম, খায়রুল আনাম শাকিল, সাদিয়া আফরীন মল্লিক, এ এফ এম হায়াত উল্লাহ, সাজু আহমেদ, ফেরদৌস আরা, অধ্যাপক প্রিয়াংকা গোপ, মাহমুদুল হাসান, কল্পনা আনাম, ফাতেমা তুজ জোহরা ও সুজিত মোস্তফাসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
//ডিবিটেক/বিটেএন/ইকে//