দেশের রাস্তায় ১০০০ ইভি: বিওয়াইডির ২ বছরের রেকর্ড ভাঙা পথচলা
মাত্র দুই বছর তিন মাসে বাংলাদেশে এক হাজারেরও বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি করে নতুন ইতিহাস গড়েছে বিশ্বখ্যাত নিউ এনার্জি ভেহিকেল উৎপাদক ব্র্যান্ড বিওয়াইডি। রাজকীয় এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা এই মাইলফলক উদযাপন করেছে।
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক অভিষেকের মাত্র ২ বছর ৩ মাসের মধ্যে দেশের রাস্তায় ১,০০০-এর বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) বিক্রির এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিউ এনার্জি ভেহিকেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত একের পর এক ১০টি বড় মাইলপোস্ট পার হয়ে এই চীনা ব্র্যান্ডটি পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। গত ১২ জুলাই, রবিবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে ‘ড্রিভেন বাই ১০০০’ শীর্ষক এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই গৌরবময় অর্জন উদযাপন করা হয়। অতিবৃষ্টিতে প্লাবিত ঢাকার রাস্তায় যখন সন্ধ্যার রক্তিম আভা অস্তমিত হচ্ছিল, ঠিক তখনই এক জাঁকজমকপূর্ণ আবহে বিওয়াইডির প্রথম ক্রেতা এবং হাজারতম ক্রেতাকে একসাথে মঞ্চে ডেকে নিয়ে শুরু হয় মূল উৎসব। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি বিশেষ টাইমলাইন ভিডিওর মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্র্যান্ডটির ব্যবসার বিকাশ ও সফলতার চিত্রটি একটি চমৎকার গল্পের মতো ফুটিয়ে তোলে কর্তৃপক্ষ।
গ্রিন টেকনোলজি বা সবুজ প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে আনার বৈশ্বিক লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০২৪ সালের ৩ মার্চ বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে বিওয়াইডি। তাদের প্রথম ফ্ল্যাগশিপ ইলেকট্রিক সেডান ‘বিওয়াইডি সিল’ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে দেশের বাজারে প্রথম আনুষ্ঠানিক নিউ এনার্জি ভেহিকেল ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে প্রতিষ্ঠানটির। সেই বছরেরই সেপ্টেম্বর মাসে তারা বাজারে নিয়ে আসে আরেকটি জনপ্রিয় মডেল ‘বিওয়াইডি অ্যাটো ৩’। পরিবেশবান্ধব গাড়ির সক্ষমতা প্রমাণ করতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারা আয়োজন করে দেশের প্রথম ১২০০ কিলোমিটার রেঞ্জ চ্যালেঞ্জ ‘সিল অ্যান্ড অ্যাটো ৩ Quest’। গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে যুগপৎভাবে ঢাকার উত্তরা এবং চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে দুটি শোরুম চালু করে তারা। এখানেই থেমে না থেকে, একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সফলভাবে সম্পন্ন করা হয় ‘ক্রস কান্ট্রি এন্ডুরেন্স ড্রাইভ’। ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ দেশের রাস্তায় ৪00-এর বেশি বিওয়াইডি গাড়ি দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করে, যা বছরটিকে এক দুর্দান্ত সফলতায় রূপ দেয়।
নতুন বছর ২০২৬ সালের শুরুতেই ব্র্যান্ডটি তাদের নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করে এবং জানুয়ারি মাসে ঢাকার তেজগাঁওয়ে নতুন শোরুমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে বাজারে আসে তাদের বিশেষ উপযোগী এসইউভি ‘বিওয়াইডি সিলিয়ন ৬’ এবং উদ্বোধনী দিনেই ২৫টি সিল ও সিলিয়ন ৬ গাড়ি গ্রাহকদের কাছে হস্তান্তর করে এক নতুন রেকর্ড তৈরি হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বিওয়াইডি আরেকটি দুঃসাহসিক উদ্যোগ নেয়; তাদের ‘সামিট ড্রাইভ’-এর মাধ্যমে সিল ও সিলিয়ন ৬ সফলভাবে আরোহণ করে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কেওক্রাডংয়ের চূড়ায়। এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পর মে মাসে আয়োজিত এক বড় গণ-ডেলিভারি অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ৩০টিরও বেশি সিলিয়ন ৬ গাড়ি ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই মাসে এলিসেন এক্সক্লুসিভ শোরুম ও টঙ্গী শোরুম উদ্বোধনের মাধ্যমে তাদের নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হয়। ক্রেতাদের বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটি তাদের পার্টস নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ ঘটায় এবং ৩টি অনুমোদিত স্পেয়ার পার্টস ডিলার যুক্ত করে। ফলে জুন মাস নাগাদ ৪,০০০-এর বেশি কাস্টমার সার্ভিস সম্পন্ন করার রেকর্ড তৈরি হয়। একই সাথে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (কিউ২) বিক্রি পূর্ববর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মোট বার্ষিক বিক্রিকে ছাড়িয়ে যায়, যা বিওয়াইডিকে এনে দেয় রেকর্ড সৃষ্টিকারী প্রবৃদ্ধি। আর এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই মাসে এসে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণ করে দেশের বুকে ১,০০০টি গাড়ি বিক্রির ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক।
এই জমকালো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিওয়াইডি এশিয়া-প্যাসিফিক অটো সেলস ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কেৎসু ঝ্যাং, বিওয়াইডি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিদ সাকিফ খান, কান্ট্রি ম্যানেজার চার্লস রেন এবং চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের।
অনুষ্ঠানে অংশীদার ও গ্রাহকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিদ সাকিফ খান বলেন, ১,০০০ নিউ এনার্জি ভেহিকেল বিক্রির মাইলফলকে পৌঁছানো বিওয়াইডি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি মুহূর্ত, যা বিশ্বমানের পণ্যের প্রতি দেশের মানুষের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন। চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশেরও দেশের ইভি খাতের সম্প্রসারণ ও পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাদের নিরলস কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
//ডিবিটেক/আইএইচ/ইডি//





