টেকসই নগর গঠনে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার আহ্বান

এপিএমসিই ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রকৌশলীরা টেকসই নগর উন্নয়নে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, নদী-খাল সংরক্ষণ এবং গবেষণালব্ধ সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

টেকসই নগর গঠনে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার আহ্বান
১২ জুলাই, ২০২৬ ২০:১৫  

জলবায়ু পরিবর্তন, টানা ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং দ্রুত নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, নদী-খাল সংরক্ষণ এবং গবেষণালব্ধ সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের প্রকৌশলী ও শিক্ষাবিদেরা। তারা বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে গবেষণা, প্রকৌশল জ্ঞান এবং কার্যকর নীতিনির্ধারণের সমন্বয় অপরিহার্য।

১২ জুলাই, রবিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে আইইবির পুরকৌশল বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এনুয়াল পেপার মিট অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (এপিএমসিই) ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান এবং “ইঞ্জিনিয়ারিং এ সাসটেইনেবল ফিউচার: দ্য রোল অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইন অ্যাচিভিং দ্য ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী প্রকৌশলীরা অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবহন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন। নদী, খাল, জলাভূমি এবং প্রাকৃতিক বন্যাপ্রবাহের পথ সংরক্ষণ করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং এবং বৈজ্ঞানিক পলি ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

ডুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. আবু তায়েব বলেন, এপিএমসিই কেবল গবেষণা সম্মেলন নয়; এটি জ্ঞান বিনিময় ও উদ্ভাবনী ধারণাকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। গবেষণায় উঠে আসা সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার কাছে পাঠিয়ে বাস্তব নীতিনির্ধারণে ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি।

আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নগর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং ঢাকায় অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ, খাল দখল, জলাভূমি ভরাট ও বর্জ্যে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়াই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. এস. এম. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের মূল দর্শন হলো বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজন পূরণ করতে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুযোগ নষ্ট না করা। এজন্য পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শক্তি-সাশ্রয়ী ভবন, গণপরিবহন, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং কম-কার্বন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবির পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (খোকা)। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আয়নুল কবির এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী নেসার উদ্দিন। এছাড়া আইইবির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগের প্রতিনিধি, গবেষক ও প্রকৌশলীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণার ফলাফলকে নীতিনির্ধারণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে পারলেই টেকসই উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।
//ডিবিটেক/এসএফ/ইকে//