১৪৫টি প্রকল্পের সেরা ২০টিকে সহায়তা দেবে আইসিটি বিভাগ

ইউনিয়ন পর্যায়ে এআই ও ফ্রিল্যান্সার প্রশিক্ষণ চালু করবে সরকার

ইউনিয়ন পর্যায়ে এআই ও ফ্রিল্যান্সার প্রশিক্ষণ চালু করবে সরকার
১১ জুলাই, ২০২৬ ১৪:০১  
১১ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৪৪  


# তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে এআই ও ফ্রিল্যান্সার প্রশিক্ষণ চালু করা হবে।
# প্রদর্শিত ১৪৫টি এআই প্রকল্পের মধ্যে সেরা ২০টিকে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দেবে আইসিটি বিভাগ।# আগামী ৫ বছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা সরকারের।

# ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘এআই নেটিভ’ বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা।

তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তির বিস্তার ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও ফ্রিল্যান্সার প্রশিক্ষণ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গ্রামে গ্রামে দ্রুতগতির কানেক্টিভিটি পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘এআই প্রজেক্ট কম্পিটিশন ২০২৬’ ও গবেষণা ল্যাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়।

১১ জুলাই (শনিবার) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম প্রধান অতিথি হিসেবে এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া ১৪৫টি প্রকল্পের মধ্যে সেরা ২০টি প্রকল্পকে আইসিটি বিভাগ থেকে বাণিজ্যিকীকরণের জন্য সার্বিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং প্রতিযোগিতায় ছয়টি বিভাগে মোট ১২টি উদ্ভাবক দলকে পুরস্কৃত করা হয়।

ইতিমধ্যে ‘এআই প্রোফেসর’, ‘এআই প্রক্টর’ এবং ‘এআই রেজিস্টার’-এর মতো উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ডেভেলপ করেছেন এবং বর্তমানে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছেন। ল্যাব উদ্বোধনের পাশাপাশি নলেজ টাওয়ারের স্টুডেন্ট লজে শিক্ষার্থীদের তৈরি এআই প্রজেক্ট নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আর কবির, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মাসুম ইকবাল এবং কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. সারওয়ার হোসেন মোল্লাহ।

​অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল একটি প্রযুক্তি নয়; এটি ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং উদ্ভাবনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৫ বছরে আইসিটি খাত থেকে ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। আমরা বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠাতে চাই, এমনকি চীনও আমাদের কর্মী চায়। এই ল্যাবটি শিক্ষার্থীদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে এবং শিল্প-উপযোগী সমাধান উদ্ভাবনে একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

আজকের তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি। এআই এখন আর কেবল প্রযুক্তি নয়, এটি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং উদ্ভাবনের প্রধান নিয়ামক। আমাদের লক্ষ্য আগামী ৫ বছরে আইসিটি খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।"

​তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত ১৪৫টি এআই প্রকল্পের মধ্য থেকে বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় ও সেরা প্রকল্পগুলোকে সরকার এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের স্টার্টআপ ফান্ড ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বাজারজাতকরণে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে। এ ছাড়া সারাদেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এআই ট্রেনিং সেন্টার ও স্যাটেলাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. সবুর খান ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের প্রথম ‘এআই নেটিভ’ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় এআই এজেন্ট তৈরি করে নিজেদের প্রয়োজন নিজেরাই মেটাতে চাই এবং রাষ্ট্রকেও প্রযুক্তিগতভাবে সহায়তা করতে চাই।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের চার নম্বর ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে এই অত্যাধুনিক ল্যাবটি স্থাপন করা হয়েছে। ল্যাবটিতে রয়েছে দুটি সুনির্দিষ্ট রুম। এর মধ্যে একটি রুমে ২৫টি এনভিডিয়া ডিজে স্পার্ক পিসিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকরা কাজ করছেন। অন্য রুমে আরটিএক্স ৩০৬০ এবং আরটিএক্স ৪০৯০ গ্রাফিক্স কার্ড সমৃদ্ধ ৭টি বিশেষায়িত কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা ভিত্তিক এজেন্ট তৈরির কাজ চলছে। বর্তমানে ৫ জন ফুল-টাইম গবেষক ল্যাবটিতে বাস্তব জীবনের জটিল সমস্যা সমাধান, এজেন্ট ডেভেলপমেন্ট এবং বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক বিভিন্ন প্রোডাক্ট সলিউশন তৈরিতে নিয়োজিত আছেন।

​//ডিবিটেক/আইএইচ/এমআই//