পুষ্টিকর খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার মাধ্যমে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ

স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় জোর দিল আইইবি, প্রকৌশলীদের জন্য ‘হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেমিনার’ অনুষ্ঠিত

প্রকৌশলীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দফতরে ‘Health & Wellness Seminar-2026’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক সুস্থতা এবং জীবনধারাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় জোর দিল আইইবি, প্রকৌশলীদের জন্য ‘হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেমিনার’ অনুষ্ঠিত
৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৪০  

প্রকৌশলীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ কর্মজীবন নিশ্চিত করতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দফতরের উদ্যোগে ‘Health & Wellness Seminar-2026: The Science of Lifelong Health: Nutrition and Lifestyle’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৫ জুলাই, রবিবার বিকেলে আইইবির পুরাতন ভবনের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবির প্রেসিডেন্ট ও রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ফাস্টফুড ও চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের প্রতি নির্ভরতা বাড়ছে, যা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্থূলতা এবং কিডনি রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, “সুস্থ শরীর ছাড়া ব্যক্তি, পরিবার কিংবা রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়। একজন প্রকৌশলীর দায়িত্ব শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারা অনুসরণের বিকল্প নেই।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেল।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আইইবি প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে দেশের ১৮টি কেন্দ্র, ৩৪টি উপকেন্দ্র এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত ১৪টি ওভারসিজ চ্যাপ্টারের মাধ্যমে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সেমিনার ও পেশাগত উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “দক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রকৌশলী গড়ে তুলতে শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান নয়, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভাবনা থেকেই এবার প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।”

অসুস্থ জীবনধারাই বড় ঝুঁকি

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের Biologics–Quantum Cellular Medicine (QCM)-এর মেডিকেল কনসালট্যান্ট ও ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ম্যানেজার এবং Washington University of Science and Technology-এর ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মজিবুল হক।

তিনি বলেন, সুস্বাস্থ্য শুধু রোগমুক্ত থাকার নাম নয়; বরং শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতার সমন্বিত অবস্থা।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যানসার এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা দ্রুত বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অসংক্রামক রোগের বড় অংশই সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ফাস্টিং, ব্যায়াম ও ঘুমের গুরুত্ব

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে মানুষের শারীরিক পরিশ্রম কমে গেছে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

তিনি জানান, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, উপযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সঠিক নিয়মে ফাস্টিং (উপবাস) বিপাকীয় কার্যক্রম উন্নত করতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি অবশ্যই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শ বিবেচনায় অনুসরণ করা উচিত।

ড. মজিবুল হক বলেন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো কিংবা অন্য কোনো শারীরিক ব্যায়াম হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে, ওজন কমাতে এবং মানসিক চাপ হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আট ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতিশক্তি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, মানসিক ভারসাম্য এবং শরীরের কোষ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী প্রকৌশলীরা স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, পুষ্টি, ব্যায়াম এবং কর্মব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনীতে আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (এসঅ্যান্ডডব্লিউ) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া গবেষণাভিত্তিক উপস্থাপনার জন্য মূল বক্তাকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

//ডিবিটেক/এসএফ/এমআই//