কর্মীদের ‘ক্লড কোড’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিল আলিবাবা
প্রযুক্তি বাজারে চরম উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক-এর তৈরি কোডিং প্রোগ্রাম ‘ক্লড কোড’ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা। আগামী ১০ জুলাই থেকে আলিবাবার কোনো কর্মী আর এই এআই টুলটি ব্যবহার করতে পারবেন না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আলিবাবা তাদের একটি অভ্যন্তরীণ নোটিশে ক্লড কোড-কে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সফটওয়্যার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং কর্মীদের এটি কম্পিউটার থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজস্ব তৈরি এআই টুল ‘কোডার’ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার মূল সূত্রপাত গত ৩০ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোরাম সাইট ‘রেডিট’-এর একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে এক প্রযুক্তি গবেষক ক্লড কোড সফটওয়্যারটির কোড বিশ্লেষণ করে দেখান যে, অ্যানথ্রোপিক অত্যন্ত গোপনে এই টুলের ভেতর একটি ট্র্যাকিং বা নজরদারির ব্যবস্থা রেখেছিল। এই ব্যবস্থাটি মূলত ব্যবহারকারীর সিস্টেমের সময় (টাইমজোন) এবং ইন্টারনেট প্রক্সি পরীক্ষা করে তিনি চীনে আছেন কি না, কিংবা আলিবাবা, বাইদু বা বাইটড্যান্সের মতো কোনো চীনা এআই ল্যাবের সাথে যুক্ত কি না, তা শনাক্ত করতে পারত।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল, এই ট্র্যাকিংয়ের তথ্যগুলো অ্যানথ্রোপিক সরাসরি পাঠাত না। তারা ‘স্টেনোগ্রাফি’ বা তথ্য লুকানোর এক বিশেষ চতুর পদ্ধতি ব্যবহার করত, যেখানে সিস্টেম প্রম্পটের তারিখ বা লেখার কমা-দাঁড়িতে মানুষের চোখে অদৃশ্য এমন সূক্ষ্ম পরিবর্তন এনে মার্কিন সার্ভারে সংকেত পাঠানো হতো।
এই অভিযোগ ফাঁসের পর অ্যানথ্রোপিকের ক্লড কোড দলের প্রকৌশলী থারিক শিহিপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি এটিকে একটি ‘পরীক্ষামূলক প্রকল্প’ হিসেবে দাবি করে বলেন, "গত মার্চ মাসে আমরা এই পরীক্ষাটি চালু করেছিলাম। এর উদ্দেশ্য ছিল অননুমোদিতভাবে যারা আমাদের অ্যাকাউন্ট কালোবাজারে বিক্রি করে, তাদের ঠেকানো এবং আমাদের এআই মডেলের বুদ্ধিমত্তা চুরির (ডিস্টিলেশন) হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করা।" তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই এই কোডটি সফটওয়্যার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে মার্কিন সরকার আগেই চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অ্যানথ্রোপিকের এআই মডেল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। কিন্তু অনেক চীনা গবেষক প্রক্সি বা ভিন্ন উপায়ে ক্লড ব্যবহার করছিলেন। গত জুন মাসেই অ্যানথ্রোপিক অভিযোগ করেছিল যে, আলিবাবার একটি ল্যাব প্রায় ২৫ হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে ক্লডের ডাটা বা তথ্য চুরি করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, সেই দ্বন্দ্বের জের ধরেই অ্যানথ্রোপিক এই গোপন নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, যার পাল্টা জবাব হিসেবে এবার আলিবাবা তাদের প্রতিষ্ঠানে এই মার্কিন সফটওয়্যারটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করল।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ





