ব্যাংককে UNESCAP-এর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে টেকসই বায়োইকোনমি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পাটভিত্তিক সবুজ শিল্প ও জলবায়ু অভিযোজনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন

সবুজ অর্থনীতি গড়তে এশিয়া-প্যাসিফিকে আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

  • ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বায়োইকোনমির বাজার ৭.৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
  • পাটের 'সোনালী ব্যাগ', বায়োগ্যাস, সৌরবিদ্যুৎ ও সুন্দরবন সংরক্ষণে বাংলাদেশের উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
  • আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সার্কুলার অর্থনীতিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনার

সবুজ অর্থনীতি গড়তে এশিয়া-প্যাসিফিকে আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
১ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৯  

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলবায়ু সহনশীল সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই জৈব অর্থনীতির প্রসারে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে UNESCAP আয়োজিত Committee on Environment and Development-এর নবম অধিবেশনের মন্ত্রীপরিষদ সভায় -১ জুলাই, বুধবার তিনি এ আহ্বান জানান। অধিবেশনে UNESCAP-এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি লিন ইয়াংয়ের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে জলবায়ু অভিযোজন, সবুজ অর্থনীতি ও বায়োইকোনমি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জৈব অর্থনীতির বাজারের আকার বর্তমানে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৭.৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এই প্রবৃদ্ধি অবশ্যই পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে, যাতে কৃষক, জেলে, নারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সরাসরি উপকৃত হয়।

তিনি বলেন, বদ্বীপ রাষ্ট্র বাংলাদেশ নিয়মিত বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও তীব্র তাপদাহের মতো জলবায়ুজনিত সংকট মোকাবিলা করছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তীব্র তাপদাহে দেশের প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য আনতে টেকসই জৈব অর্থনীতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একই দিনে ব্যাংককের জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সরকার, ESCAP, FAO, ADPC ও UNEP-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আরেকটি আলোচনা সভায় পরিবেশমন্ত্রী বাংলাদেশের সবুজ উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালী আঁশ পাট এখন উচ্চমূল্যের পরিবেশবান্ধব পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে 'সোনালী ব্যাগ' উৎপাদনে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সফলতা অর্জন করেছে।

মন্ত্রী আরও জানান, গ্রামীণ এলাকায় বায়োগ্যাস ও উন্নত চুল্লি কর্মসূচি জ্বালানি সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি দুর্গম উপকূলীয় অঞ্চলে ৪.১৩ মিলিয়নের বেশি Solar Home System স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের কাছে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তিনি UNESCO স্বীকৃত বিশ্বের বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে জলবায়ু দুর্যোগ মোকাবিলায় সুনীল জৈব অর্থনীতি ও ম্যানগ্রোভ বনায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

পরিবেশমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর নেতৃত্বে সরকারের আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং 3R পদ্ধতি ও আবর্তিত অর্থনীতির মডেলের মাধ্যমে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

//ডিবিটেক/টিএইচ/ইকে//