যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রকল্পে ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনসহ চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে তিন মাসের প্রশিক্ষণ; ছয় ব্যাচের ৬০ শতাংশ ইতোমধ্যে কর্মসংস্থানে

৭ম ব্যাচে ৬৪ জেলায় একযোগে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ পচ্ছেন ৪,৮০০ তরুণ-তরুণী

  • প্রকল্পে ২০২৭ সালের মধ্যে ৩৬ হাজার যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষণের লক্ষ্য।
  • আগের ছয় ব্যাচের ১১,৩৫৩ জন ইতোমধ্যে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করছেন।
  • প্রশিক্ষণে ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও সম্পাদনাসহ আধুনিক দক্ষতা শেখানো হবে।

৭ম ব্যাচে ৬৪ জেলায় একযোগে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ পচ্ছেন  ৪,৮০০ তরুণ-তরুণী
১ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৫  
১ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪০  

দেশের শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় তিন মাসব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের সপ্তম ব্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

১ জুলাই, বুধবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। সঞ্চালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এতে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধিসহ অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি জানান, সপ্তম ব্যাচে ৪ হাজার ৮০০ তরুণ-তরুণী কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও গ্রাফিক্স ডিজাইনের মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে বেকারত্ব কমিয়ে পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনেও সহায়ক হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, শিক্ষিত বেকার যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রশিক্ষণার্থীরা আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে নিজেদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।

ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনছেন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিজেদের সাফল্যের গল্প অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান, যাতে আরও তরুণ-তরুণী এ পেশায় আগ্রহী হন।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৭৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে মোট ৩৬ হাজার শিক্ষিত যুব-যুবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলায় তা পরিচালিত হচ্ছে।

সপ্তম ব্যাচে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস তরুণ-তরুণীরা এ সুযোগ পেয়েছেন। জেলা প্রশাসন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে তাদের নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ছয়টি ব্যাচে ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ১১ হাজার ৩৫৩ জন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন।

এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মোট আয় ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৯০ মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮৭ টাকা। সব মিলিয়ে তাদের মোট উপার্জনের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ২১৫ টাকা। আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এবারের ব্যাচে ভর্তির জন্য লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে প্রায় ৭০ হাজার আবেদনকারী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে চূড়ান্তভাবে ৪ হাজার ৮০০ জনকে নির্বাচিত করা হয়।

প্রশিক্ষণার্থীরা প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে তিন মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, মৌলিক ইংরেজি, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ভিডিও সম্পাদনা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত ভাতা, খাবার ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র প্রদান করা হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়মিত তদারকি করবে।

//ডিবিটেক/এমএস/এআই//