বিশ্বকাপের অবৈধ স্ট্রিমিং রুখতে ৪০০ ওয়েবসাইট জব্দ করল আমেরিকা
চলমান ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ম্যাচগুলো অবৈধভাবে লাইভ স্ট্রিমিং করার অভিযোগে প্রায় ৪০০টি ওয়েবসাইটের ইন্টারনেট ডোমেইন জব্দ করেছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডোজ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও ক্রেজকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক পাইরেসি নেটওয়ার্কগুলোর অবৈধভাবে মুনাফা লোটার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করতেই এই আকস্মিক অভিযান চালানো হয়েছে।
ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা, এনবিসি ইউনিভার্সাল এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্স-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বিচার বিভাগ এই অবৈধ ডোমেইনগুলো সনাক্ত করে।
ম্যাচ চলাকালেই পাইরেসি
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, জব্দকৃত ওয়েবসাইটগুলো কপিরাইট বা স্বত্বাধিকার আইন লঙ্ঘন করে খেলা চলাকালীন একদম রিয়েল-টাইমে (সরাসরি) বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সম্প্রচার করছিল।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন্সের বিশেষ এজেন্ট এরিক ওয়েনডর্ফ এক বিবৃতিতে দর্শকদের সতর্ক করে বলেন: “এই ধরনের অবৈধ স্ট্রিমিং সাইটগুলো শুধু যে কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করছে তা নয়, বরং এগুলো ব্যবহারকারীদের বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলছে। এই সাইটগুলোর মাধ্যমে দর্শকদের ডিভাইসে ম্যালওয়্যার ছড়াতে পারে এবং অনিরাপদ কানেকশনের কারণে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য চুরি বা হ্যাক হওয়ার তীব্র সম্ভাবনা থাকে।”
আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে আঘাত
এই পাইরেসি চক্রটি শুধু আমেরিকায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ছিল। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই অবৈধ স্ট্রিমিংয়ের সাথে জড়িত মূল সার্ভার এবং ডোমেইনগুলোকে চিহ্নিত করে মূলত পেরু ও বুলগেরিয়াতে বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। এছাড়া ক্রোয়েশিয়া, রোমানিয়া, পোল্যান্ড এবং কলম্বিয়াতেও এই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ব্যাহত করতে সমান্তরাল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ
গত ১১ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে পর্দা উঠেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার ৩টি দেশের ১৬টি শহরে এই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতির সংখ্যা ইতিমধ্যেই অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। অন্যদিকে, টেলিভিশন রেটিং পরিমাপক সংস্থা ‘নিলসেন’-এর রিপোর্ট বলছে, গত সপ্তাহের ম্যাচগুলো টেলিভিশনের ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ ভিউয়ারশিপ বা দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে, যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ী ম্যাচটি তালিকার শীর্ষে ছিল। ঠিক এই বিপুল জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়েই সাইবার অপরাধীরা অবৈধ স্ট্রিমিংয়ের ফাঁদ পেতেছিল, যা এখন মার্কিন প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মুখে পড়ল।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স





