এসএসসি যোগ্যতার পদে নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন প্রকৌশলী, এমবিএ ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী; কর্মসংস্থান ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন আলোচনা

পাবনায় অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেলেন ১৭ উচ্চশিক্ষিত তরুণ

পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়া ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জনই উচ্চশিক্ষিত। এসএসসি পাস শিক্ষাগত যোগ্যতার পদে প্রকৌশলী, এমবিএ ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ পাওয়া একদিকে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা পাচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান পরিস্থিতি ও উচ্চশিক্ষার বাস্তব মূল্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

পাবনায় অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেলেন ১৭ উচ্চশিক্ষিত তরুণ
২৬ জুন, ২০২৬ ১১:০৫  

পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেয়েছেন ১৮ জন। তবে এই নিয়োগের বিশেষ দিক হলো— নির্বাচিতদের মধ্যে ১৭ জনই উচ্চশিক্ষিত এবং তাদের অনেকে প্রকৌশল, ব্যবসা শিক্ষা ও বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অফিস সহায়ক পদটির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল এসএসসি বা সমমান। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নির্বাচিতদের বড় অংশই উচ্চশিক্ষিত হওয়ায় বিষয়টি সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ট্রিপল-ই বিভাগে বিএসসি ডিগ্রিধারী ওয়ালিয়েল রাদ দিহান, পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা সুজন মিয়া, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করা উজ্জ্বল হোসেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে মাস্টার্স ও অনার্স ডিগ্রিধারী আরও অনেকে।

জানা গেছে, মোট ১৮ জনের মধ্যে একজন এইচএসসি পাস এবং বাকিদের বড় অংশ স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী বা ডিগ্রিধারী।

চাকরিতে যোগদান উপলক্ষে গত ২৫ জুন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয় এবং তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, গত বছরের ২৫ অক্টোবর ১৮টি পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রায় ৮ হাজার আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় ৪৪ জন উত্তীর্ণ হওয়ার পর মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ১৮ জনকে নির্বাচিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই নিয়োগকে অনেকেই উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তবে একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের নিম্নপদে চাকরির প্রতি আগ্রহ দেশের শ্রমবাজার, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এবং উচ্চশিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠছে।

//ডিবিটেক/জেআর/এমআই//