এইচএসসি প্রস্তুতি সভায় শিক্ষা সংস্কার, নিয়োগ ও জবাবদিহির ইঙ্গিত
শিক্ষক অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের লুট হওয়া ৭ হাজার কোটি টাকা উদ্ধারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষক নিয়োগ, অভিন্ন প্রশ্নপত্র, শিক্ষা মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা প্রশাসনে জবাবদিহি জোরদারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন।
শিক্ষা খাতে কাঠামোগত সংস্কার, শিক্ষক নিয়োগ এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সমন্বয় আনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।। একই সঙ্গে শিক্ষক অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা দিলেন, বিগত রেজিমে শিক্ষক অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের সাত হাজার কোটি টাকা লুট ও পাচার হয়েছে এবং এসব টাকা উদ্ধার করে প্রাপ্যজনদের ফিরিয়ে দিতে সরকার আইনি উদ্যোগ নেবে।
২৬ জুন, শুক্রবার দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মহাঃ তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সাদিকুর রহমান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমীন এবং দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, ফলাফল উন্নয়ন ও শিক্ষা সংস্কার নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এসময় শিক্ষামন্ত্রী দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক না থাকা এবং আইনি জটিলতায় আটকে থাকা শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন। এছাড়া নতুন কারিকুলামে ‘মোরাল এডুকেশন’ ও ‘ফ্যামিলি ভ্যালুজ’ সম্পৃক্ত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
শিক্ষক সংকট নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে এখনো প্রধান শিক্ষক নেই এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী শিক্ষকদের প্রশ্ন করেন, কতজন তাদের নিজেদের সন্তানকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে পড়ান। উপস্থিত চার শতাধিক শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ১৫-২০ জন হাত তুললে মন্ত্রী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকরা যদি নিজেদের প্রতিষ্ঠানে সন্তান পড়ানোর আত্মবিশ্বাস না পান, তবে বুঝতে হবে সেখানে পড়াশোনা ঠিকমতো হচ্ছে না।
সভায় শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের ভর্তি প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। তার মতে, শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের প্রত্যক্ষ দায়বদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে তিনি জানান, চলতি বছর দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভবিষ্যতে সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি ধারার অভিন্ন বিষয়গুলোতেও সমন্বিত মূল্যায়ন কাঠামো বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, এবার দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে এবং আগামীতে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের আবশ্যিক বিষয়গুলোতেও অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর মাধ্যমে শিক্ষাকে একই ধারায় আনা হবে। সভায় একজন মাদ্রাসা অধ্যক্ষ আলিম স্তরে বাংলা ও ইংরেজিতে ২০০ নম্বর কমিয়ে পূর্বের মতো ১০০ নম্বর করার দাবি জানালে মন্ত্রী তা নাকচ করে দেন।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার সাথে প্রতিযোগিতার জন্য এই নম্বর জরুরি। তবে মাদ্রাসায় মোট ১,৭০০ নম্বরের পরীক্ষা এবং সাধারণ বোর্ডে ১,২০০ নম্বরের পরীক্ষা থাকার বৈষম্যটি দূর করে একই ধারায় আনার বিষয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী।
//ডিবিটেক/এসএইচ/আইএইচ//





