প্রস্তাবিত বাজেটে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির করভার বৃদ্ধিতে বাজার সংকোচনের আশঙ্কা সংগঠনটির
বাজেটে করছাড় চায় বারভিডা, হাইব্রিড গাড়িতে সমান নীতিসহায়তার দাবি
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে মধ্যম সারির রিকন্ডিশন্ড জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির অতিরিক্ত করভার প্রত্যাহার, প্লাগ-ইন হাইব্রিডে সমান শুল্ক সুবিধা এবং হাইব্রিড প্রযুক্তির জন্য নীতিগত সহায়তা চেয়েছে বারভিডা।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে মধ্যম সারির রিকন্ডিশন্ড জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির ওপর অতিরিক্ত করভার প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। একইসঙ্গে ব্র্যান্ড নিউ ও রিকন্ডিশন্ড প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির জন্য সমান শুল্ক সুবিধা এবং হাইব্রিড গাড়িকে নীতিগত সহায়তার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
২০ জুন, শনিবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন বারভিডা সভাপতি আবদুল হক।
বারভিডার মতে, সরকার বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) ব্যবহারে উৎসাহ দিতে শুল্ক সুবিধা বাড়ালেও দেশে এখনো পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ ঘিরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ইতোমধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। তাই টেকসই পরিবহন ব্যবস্থায় ইভির পাশাপাশি হাইব্রিড প্রযুক্তিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটি জানায়, রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার স্থানীয় বিনিয়োগ রয়েছে এবং এ খাত থেকে বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে ১-১৫০০ সিসির পরিবর্তে ১-১২০০ সিসি ও ১২০১-১৬০০ সিসি নামে নতুন করস্ল্যাব নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে জনপ্রিয় ও জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ির মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
বারভিডার হিসাব অনুযায়ী, নতুন কর কাঠামো কার্যকর হলে রিকন্ডিশন্ড সেডান শ্রেণির গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এতে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও রাজস্ব প্রবাহেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে সংগঠনটি বলেছে, নতুন গাড়ির জন্য শুল্ক সুবিধা থাকলেও রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক বহাল রয়েছে, যা বাজারে বৈষম্য তৈরি করছে।
বারভিডা প্লাগ-ইন হাইব্রিডের ক্ষেত্রে নতুন ও রিকন্ডিশন্ড উভয় ধরনের গাড়ির জন্য অভিন্ন সম্পূরক ও রেগুলেটরি শুল্ক নির্ধারণের পাশাপাশি মাইক্রোবাসেও একই সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।
এ ছাড়া ২০০১-২০২৫ সিসি ক্ষমতার প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ নির্ধারণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করতে নীতিগত সহায়তার আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ কর কাঠামো তৈরি হলে মোটরযান খাতের বিনিয়োগ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং রাজস্ব প্রবাহ আরও টেকসই হবে।
//ডিবিটেক/ডিপি/ইকে//





