এআই সেবায় ব্যবসায়িক সংযোগ
দেশে প্রথম এআই বিজনেস সামিটে ১২৪ প্রতিষ্ঠান
- প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট।
- দেশি-বিদেশি ১২৪ প্রতিষ্ঠান এআইভিত্তিক সেবা ও প্রযুক্তি নিয়ে অংশ নিয়েছে।
- তিনটি সেশনে এআইয়ের প্রয়োগ, ব্যবসায়িক উদ্ভাবন ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা।
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে শুরু হয়েছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। এআইভিত্তিক বিভিন্ন সেবা, প্রযুক্তি প্রদর্শন এবং ব্যবসায়িক সংযোগ তৈরির এ আয়োজনে দেশি-বিদেশি ১২৪টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এতে যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের প্রদর্শকরাও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) সামিটের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ‘এআই-ফিকেশন ফর টুমরোজ ইকোনমি’ প্রতিপাদ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এ আয়োজন করেছে।
সামিটে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ব্রেইন স্টেশন, বন্ডস্টাইন, ব্র্যাক আইটি, পাঠাও, ব্রোটেক্স, এসএসডি টেক, ফকির গ্রুপ ও আস্থা আইটি। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের এআইনির্ভর সেবা ও প্রযুক্তিগত সমাধান প্রদর্শন করছে।
আয়োজকরা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কীভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে এআইভিত্তিক সমাধান গ্রহণ করতে পারে, সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়াই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
মূলত এটি একটি বিজনেস ম্যাচমেকিং প্ল্যাটফর্ম। এখানে ব্যবসায়ীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত প্রযুক্তি ও এআইভিত্তিক সমাধান খুঁজে নিতে পারবেন।
সামিটে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, সেমিনার ও প্রদর্শনীর পাশাপাশি তিনটি বিশেষ অধিবেশন রাখা হয়েছে। এর প্রথমটি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তর মোকাবিলা: প্রয়োগ, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক। এ অধিবেশনের উদ্দেশ্য হলো উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, উদ্ভাবন এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের দক্ষতা বাড়াতে এআইয়ের ভূমিকা তুলে ধরা। পাশাপাশি এআইনির্ভর নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা এবং নীতি, দক্ষতা ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা হবে।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. জুলকারিন জাহাঙ্গীর। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাইসুল কবির, রেভোরার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী শোভো রহমান, মার্কোপোলো এআইয়ের প্রধান নির্বাহী তাসফিয়া তাসবিন এবং পাঠাওয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ফাহিম আহমেদ।
অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারের।
দ্বিতীয় অধিবেশনের বিষয় ‘শিল্প ও শিক্ষার মধ্যকার সংযোগ: ব্যবসায়িক উদ্ভাবনে এআইয়ের প্রয়োগ’। শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে এআইনির্ভর ব্যবসায়িক উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বাণিজ্যিকীকরণ এবং শিল্প খাতের উপযোগী দক্ষতা উন্নয়নের বাস্তবসম্মত উপায় নিয়ে এ অধিবেশনে আলোচনা হবে।
ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমানের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় রয়েছেন বুয়েটের শিক্ষার্থী ও নেভোলিনের প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান নির্বাহী মো. রাহিনুর রহমান, আইইউটির শিক্ষার্থী ও অ্যান্টসের প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান নির্বাহী তৌসিফুল ইসলাম, এআইইউবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফিরোজ মৃধা, ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী সিমিন রহমান, ফ্ল্যাক্সার সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুর রাজ্জাক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন।
এ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে তৃতীয় অধিবেশন ‘সবার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: স্থানীয় মেধা দিয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধান’। এতে ব্যবসায়িক কাজ সম্পাদনে এআই এজেন্টের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা তুলে ধরা হবে। অর্ডার প্রক্রিয়াকরণ, লেনদেন সমন্বয় এবং শিল্পভিত্তিক সমস্যা শনাক্ত করে সমাধান দেওয়ার মতো কাজে এআই এজেন্ট কীভাবে ডিজিটাল সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে এসব ক্ষেত্রে যথাযথ মানবীয় তদারকির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
এ অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন লুজলি কাপলড টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফিরোজ মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান। প্যানেল আলোচনায় থাকবেন কেয়ার বাংলাদেশের নারী ও যুব কর্মসূচির পরিচালক রওনক জাহান, বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অংশীদার তৌসিফ ইশতিয়াক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এবং ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ড. মো. সাবুর খান এবং আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসাইন খালেদ।
তৃতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সামিটের সারসংক্ষেপ তুলে ধরবেন।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এসএমপি/এমভিএনও//





