অনলাইনে সেবা দিলেই ডিজিটাল নয়, গুরুত্ব দিতে হবে সহজতা, গতি ও স্বচ্ছতায়

প্রযুক্তি নয়, নাগরিকসেবার রূপান্তরই লক্ষ্য: বাকুতে আইসিটি মন্ত্রী

  • ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য প্রযুক্তির সংখ্যা নয়, নাগরিকের সেবাপ্রাপ্তির অভিজ্ঞতা দিয়ে পরিমাপের আহ্বান জানিয়েছেন ফকির মাহবুব আনাম।
  • প্রযুক্তি চালুর আগে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সংস্কার, প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও আন্তঃসংস্থার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
  • ডেটা সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, দক্ষ জনবল ও জনগণের আস্থাকে ডিজিটাল সরকারের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন মন্ত্রী।

প্রযুক্তি নয়, নাগরিকসেবার রূপান্তরই লক্ষ্য: বাকুতে আইসিটি মন্ত্রী
৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৩  

শুধু প্রযুক্তির অগ্রগতি নয়, নাগরিকসেবার পূর্ণাঙ্গ রূপান্তরই ডিজিটাল সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, সেবা অনলাইনে পাওয়া গেলেই তা পুরোপুরি ডিজিটাল হয় না। ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য মাপতে হবে নাগরিকের জন্য সেবা কতটা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজলভ্য হলো, তা দিয়ে—প্রযুক্তির সংখ্যা দিয়ে নয়।

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ‘ইউএন গভর্ন্যান্স ইনোভেশন সামিট: অ্যাডভান্সিং ফিউচার-রেডি ইনস্টিটিউশনস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অষ্টম অধিবেশনে ‘চ্যালেঞ্জিং কনভেনশনাল অ্যাপ্রোচেস টু গভর্ন্যান্স ইনোভেশন অ্যান্ড অ্যান্টিসিপেটরি গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক ক্রস-এক্সামিনেশন সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রযুক্তি দিয়ে সরকারি প্রশাসনের পরিবর্তন সম্ভব নয়। সংযোগ অবকাঠামো তৈরি করলেও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিই সেই সংযোগকে জনকল্যাণে রূপ দেয়। নতুন প্রযুক্তি চালুর আগে সরকারকে সমস্যাটি চিহ্নিত করতে হবে, বিদ্যমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমাতে হবে, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব স্পষ্ট করতে হবে এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনায় ফকির মাহবুব আনাম তিনটি সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেন। এগুলো হলো—স্পষ্ট জবাবদিহি, আন্তঃসংযোগযোগ্য ডেটা ব্যবস্থা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে সক্ষম প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা; নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মানসিকতাসম্পন্ন জনবল তৈরি; এবং শক্তিশালী ডেটা গভর্ন্যান্স, সাইবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা সুরক্ষা ও সহজলভ্য অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন।

মন্ত্রী বলেন, “প্রযুক্তি নাগরিককে সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধ্য করবে না; বরং সরকারি ব্যবস্থাই নাগরিকের সঙ্গে খাপ খাওয়াবে।”

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি নিজেই প্রাতিষ্ঠানিক বাধা চিহ্নিত করে সংস্কার ত্বরান্বিত করতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশে প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মন্ত্রী বলেন, “এআই, অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে পারে।” সরকার এই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই কাজ করছে বলে জানান তিনি।

আলোচনা শেষে মন্ত্রী বলেন, কাগজভিত্তিক পদ্ধতিকে শুধু অনলাইনে স্থানান্তরের মানসিকতা থেকে সরে এসে নাগরিকের চাহিদা অনুযায়ী পুরো সেবা-প্রক্রিয়া নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এতে অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমছে এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে সরকার আরও সাড়াদানকারী, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠছে।

অধিবেশনে বাংলাদেশের মন্ত্রীর পাশাপাশি লেসোথোর মন্ত্রী মোয়েকেতসি মোৎসোয়ানে, মৌরিতানিয়ার ব্রাহিম বুলখেইর এবং মেক্সিকোর ক্যারোলিনা প্লাটা লোপেজ অংশ নেন। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের অধীন পাবলিক সার্ভিস ও সোশ্যাল ইনোভেশনবিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থার (এসএপিএসএসআই) উপ-চেয়ারম্যান জেহুন সালমানভ অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন।

সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, প্রশাসনিক উদ্ভাবন এবং জনসেবায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিয়ে মতবিনিময় করেন।

//ডিবিটেক/ এমজেডইউ/এসএমপি/ এমআরটি//