কার্ড পেমেন্টে ৫% প্রণোদনা চান ব্যবসায়ীরা

কার্ড পেমেন্টে ৫% প্রণোদনা চান ব্যবসায়ীরা
৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৩৩  

নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট বিস্তারে কার্ডভিত্তিক লেনদেনে ৫ শতাংশ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। ৫ এপ্রিল, রবিবার রাজধানীর এনবিআর ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব তুলে ধরে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম)।

সংগঠনটি জানায়, প্রস্তাবিত প্রণোদনার মধ্যে ৩ শতাংশ গ্রাহক এবং ২ শতাংশ ব্যবসায়ীরা পেতে পারেন। এতে নগদের ব্যবহার কমবে এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করছে তারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. আবদুর রহমান খান, চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে এনবিআর ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অ্যামচ্যাম বলছে, দেশে ই-কমার্স খাতের প্রবৃদ্ধি এবং ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারের ফলে নগদের ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং লেনদেনের স্বচ্ছতা বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্যও অর্থ স্থানান্তর সহজ হয়েছে। এখন নগদ প্রণোদনা দেওয়া হলে ডিজিটাল লেনদেন আরও বাড়বে এবং ‘ক্যাশ-লাইট’ অর্থনীতির বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।

প্রাথমিকভাবে ব্যাংক, ব্যবসায়ী বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সেবাদাতারা এই প্রণোদনা দিতে পারে বলে প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তীতে তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সমন্বয় করা যেতে পারে।

আসন্ন জাতীয় বাজেট সামনে রেখে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে একাধিক সুপারিশও তুলে ধরে অ্যামচ্যাম। এর মধ্যে করনীতি সহজীকরণ, ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উৎসে কর কর্তনের ক্ষেত্রে রুল ৩৯ অনুযায়ী কর্পোরেট কর নির্ধারণ করলে উৎসে কর ৪.১২৫ শতাংশ এবং অন্যথায় ৫.২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি ও স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য সমান ৩৭.৫ শতাংশ করহার বজায় রাখার সুপারিশ করা হয়।

ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে স্মার্ট কার্ড ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশের নিচে নামানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কার্বনেটেড পানীয়ের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার আহ্বান জানানো হয়। অ্যামচ্যামের মতে, বর্তমানে পানীয় খাতে ৫৪ শতাংশ করভার উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে।

এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের বর্জ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ সেবাকে ভ্যাট অব্যাহতির আওতায় আনা, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ বাড়াতে করহার কমানোসহ আরও কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ব্যক্তিগত আয়করের সর্বোচ্চ হার ২০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ওপর সারচার্জ মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি খোরশেদ আলম এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তারা গার্মেন্টস শিল্পে ৫০ শতাংশ কাঁচামাল দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার সুপারিশও করেন।

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ব্যক্তিগত আয়কর সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ, ট্রেড লাইসেন্স ফি ৫০ শতাংশ কমানো এবং নারী উদ্যোক্তাদের শোরুমে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছে।

এছাড়া ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ বিনিয়োগবান্ধব করনীতি, প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

ডিবিটেক/ডিএইচই/ইকে