বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরে অংশীদারিত্ব বাড়াতে চায় সরকার

বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরে অংশীদারিত্ব বাড়াতে চায় সরকার
৩০ মার্চ, ২০২৬ ২০:৩৭  

দেশের পরিবেশ দূষণ কমাতে এবং বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী সরকার। 

৩০ মার্চ, সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে অনুষ্ঠিত  একটি কর্মশালার সমপনীতে এমনটাই জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন  মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

তার ভাষায়, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্লাস্টিকসহ সব ধরনের বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে, যা দেশের পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 'ডিকার্বনাইজিং বাংলাদেশ'স প্লাস্টিক ওয়েস্ট: ইনোভেটিভ সলিউশনস ফর দ্য সার্কুলার ইকোনমি' শীর্ষক এই ওয়ার্কশপের আয়োজন করে  বাংলাদেশ পেট্রোকেমিকেল কোম্পানি লিমিটেডের  (বিপিসিএল)।

 তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বায়ু ও পানি দূষণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে এবং নগরাঞ্চলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের দূষণ—বায়ু, পানি ও লেক দূষণ—নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সেগুলো কমানোর উপায় খোঁজা হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, দেশে পরিবেশ সংক্রান্ত অনেক আইন থাকলেও সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্লাস্টিক দূষণের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, কারণ প্লাস্টিক দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বরং পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে। 

এসময় প্লাস্টিক বোতল পুনর্ব্যবহারে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, প্লাস্টিক ব্যাগসহ অন্যান্য উপকরণ পুনর্ব্যবহারে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন।

মন্ত্রী জানান, দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার একটি বড় অংশ নির্দিষ্ট স্থানে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এতে আশপাশের বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ছে। সরকার এই বর্জ্যকে জ্বালানি বা জৈবসারে রূপান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে, যাতে এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর না হয়ে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে তৈরি পোশাক খাতে আমদানি নির্ভরতা কমাতে সক্ষম হয়েছে। আগে যেখানে ৮৩ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি করতে হতো, এখন তা কমে প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে। একইভাবে ওষুধ শিল্পেও দেশীয় কাঁচামালের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, কারণ বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৭০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে সবকিছু পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই বেসরকারি খাতকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদান করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয় এবং এ জন্য সময় ও সমন্বয় প্রয়োজন। তবে ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

কর্মশালায় বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন দেন  বিপিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও খাদেম মাহমুদ ইউসুফ। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ডক্টর ফাহমিদা খানম, ইউএনও পিএস কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালি ধরন। 

ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম