এমটিএফই প্রতারণার ৪৪ কোটি টাকা ফেরত এনেছে সিআইডি
প্রতারণার মাধ্যমে অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম— মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জের (এমটিএফই) মাধ্যমে পাচার করা অর্থের প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ফেরত আনার কথা বলেছে পুলিশ। ২৯ মার্চ, রবিবার দিবাগত রাতে এক বার্তায় এ তথ্য দিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলেছে, সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে তারা বিস্তারিত জানাবে।
এ নিয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) জসীম উদ্দীন খান বলেন, “পাচার হওয়া টাকার একটা অংশ ফেরত এসেছে। এ বিষয়ে সোমবার বিস্তারিত জানানো হবে।”
অপরদিকে টাকাটা ইতিমধ্যে সোনালী ব্যাংকে সিআইডির অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির প্রধান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। সূত্রমতে, এই অর্থ গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেড ১৪ মার্চ এই অর্থ জমা দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক জেপি মরগানের মাধ্যমে তা সোনালী ব্যাংকের ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আদালতের নির্দেশনার আলোকেই ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ বণ্টন করা হবে।
জানাগেছে, সপ্তাহ দুয়েক আগে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিটে’ অংশ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে নানা কায়দায় টাকা পাচারের বিষয়টি তুলে ধরেন স্বরাষ্টমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্মেলনে ডিজিটাল স্ক্যাম, এমএলএম পঞ্জি স্কিম ও করপোরেট দুর্নীতির মতো প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ১৫ বছরে বাংলাদেশের আনুমানিক ২১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির তথ্যও সেখানে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়াও সম্প্রতি এমটিএফই এবং বিভিন্ন বিতর্কিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাতেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এরপরেই এমন খবর দিলো সিআইডি।
সিআইডি’র ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ও সাইবার পুলিশ সেন্টারের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। দেশের উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাসহ ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী, কুমিল্লা, কুষ্টিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সাতক্ষীরার হাজারও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরবর্তীতে বিদেশি সংস্থার সহায়তায় এসব সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রায় ৪৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ ক্রিপ্টো সম্পদ শনাক্ত ও জব্দ করা সম্ভব হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের জুনের দিকে দুবাইভিত্তিক অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত এমএলএম পদ্ধতিতে কাজ করা এমটিএফই প্ল্যাটফর্মের তৎপরতার বিষয়টি সামনে আসে। ২০২৩ সাল নাগাদ রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশালসহ বিভিন্ন জায়গায় অফিস খুলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতারণার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে একপর্যায়ে সব অফিস বন্ধ করে দেশ থেকে উধাও হয়ে যায়। ফলে সে বছরেরই২৮ অগাস্টে খিলগাঁও থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন মারুফ রহমান মাহিম নামে এক ভুক্তভোগী।এতে এমটিএফই বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাসুদ আলম, এজেন্ট মোবাশিরুল এবাদসহ ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়। পরে সেই মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি।
ডিবিটেক/এনএচটি/ইকে



