জামায়াতের ইশতেহারে প্রাধান্য পেল ফ্রিল্যান্সিং, উপজেলায় ই-ওয়ার্কহাব , ইউথ টেক ল্যাব

জামায়াতের ইশতেহারে প্রাধান্য পেল ফ্রিল্যান্সিং, উপজেলায় ই-ওয়ার্কহাব , ইউথ টেক ল্যাব
৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:২৫  
৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:৩৪  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইশতেহারে দলটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ১৫ লাখ সফল ফ্রিল্যান্সার এবং ৫ লাখ নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে প্রত্যেক উপজেলায় ই-ওয়ার্কহাব ও ইউথ টেক ল্যাব স্থাপন, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তরের সর্বত্র সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছ ইশতেহারে। সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে সবুজ সঙ্কেত দিয়ে লালকার্ড দেখানো হয়েছে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিকে। 

৪ ফেব্রুয়ারি, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। ইশতেহার ঘোষণায় জামায়াত আমির বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। যে কোনো স্তরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পদ্ধতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। প্রশাসনের সকল স্তরে সেবা ডিজিটালাইজ করে সরাসরি যোগাযোগ ও তদবির বন্ধ করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা, নৈতিক নেতৃত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সংবলিত পাঠ্যক্রম যুক্ত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সৎ ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতির জন্য শাস্তি নিশ্চিতে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি কার্যকর করা হবে।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, একটি শক্তিশালী ও যুগোপযোগী যুবনীতি প্রণয়ন করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণ-তরুণীকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি, গ্রিন টেকনোলজি ও উদ্যোক্তা দক্ষতা। 

প্রত্যেক উপজেলায় ‘ইউথ টেক ল্যাব’ স্থাপনের মাধ্যমে অনলাইন, অফলাইন ও হাইব্রিড পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং এবং গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ তৈরি করা হবে। ‘প্রথমেই চাকরি নয়, প্রথমেই উদ্যোক্তা’—এই নীতির আলোকে প্রত্যেক উপজেলায় ই-ওয়ার্কহাব স্থাপন করে ১৫ লাখ সফল ফ্রিল্যান্সার ও পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নৃ-গোষ্ঠীর উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের পাশাপাশি নারীদের ডিজিটাল কাজ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার জন্য বিশেষ সুযোগের কথা বলা হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের তরুণদের বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হাইস্পিড ইন্টারনেট, কম্পিউটার, কো-ওয়ার্কিং স্পেস ও ফ্রিল্যান্স প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। আপওয়ার্ক, ফাইভার ও ফ্রিল্যান্সারের মতো গ্লোবাল মার্কেটপ্লেসে সরাসরি সংযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই বৈশ্বিক আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

তরুণ সমাজের সার্বিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগে পাঁচ বছরে ৫০ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য শিক্ষিত বেকারদের কর্জে হাসানা (সুদমুক্ত ঋণ) হিসেবে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ‘দক্ষতা বহুমুখীকরণ ফি’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পাশাপাশি ‘যোগ্যরাই সরকারি চাকরিতে, বয়স কোনো বাধা নয়’—এই নীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

জেলাভিত্তিক ইয়ুথ জব ব্যাংক উদ্যোগ এবং বিভাগীয় শহরে ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করে প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং ও বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি বছর জাতীয় ও আঞ্চলিক কর্মসংস্থান মেলার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণদের শারীরিক সুস্থতার জন্য মহল্লাভিত্তিক ব্যায়ামাগার, খেলার মাঠ ও সুইমিং পুল স্থাপনে বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করার কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া অলিম্পিকসহ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ অবকাঠামো গড়ে তোলা, দেশব্যাপী বার্ষিক ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ আয়োজন এবং ক্রীড়াঙ্গনকে সিন্ডিকেট ও দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে। হাডুডু, কুস্তি ও নৌকাবাইচের মতো দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।

ইশতেহারে ক্রীড়াকে সুস্থ-সবল জাতি গঠনের সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। শিশু-কিশোর ও যুবক-যুবতীদের সার্বজনীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক মানের ৫০০ ক্রীড়াবিদ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে খেলোয়াড় নির্বাচন, মাসিক বৃত্তি, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে সহায়তা এবং স্পোর্টস সায়েন্স ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

ডিবিটেক/ডিপিএম/ইএস