ব্যক্তিগত উপাত্ত নিয়ে গুমের ঘটনায় নতুন আইনে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে
অতীতে গুম খুনের মতো ঘটনায় ব্যক্তিগত তথ্য উপাত্ত অপব্যবহার করে করা হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহার করে এনআইডি পর্যন্ত করা হচ্ছে। জিও লোকেশন নিয়ে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাই নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষিত করতেই আইন। এই আইনে জামিন অযোগ্য কোনো ধারা রাখা হয়নি। একই সঙ্গে কোয়সি জুডিসিয়াল অথিরিটি রেখে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশষ সহকারি ফয়েজ আহমদে তৈয়্যব।
১২ সেপ্টেম্বর, রবিবার আইসিটি টাওয়ারের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত অবহিতকরণ সভায় এমনটাই জানান তিনি। বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’, ‘জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর সঙ্গে সমন্বয় করে সম্মিলিত ভাবে নতুন আইনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রথম বারের মতো আইন ও পলিসির সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগের মাধ্যমে এই আইন করা হয়েছে জানিয়ে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, যেহেতু পারসোনাল ডেটা প্রটেকশনের সঙ্গে ডেটা প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্স পাশ হয়েছে তাই দেশের সঙ্গে বিদেশি স্টেকহোল্ডারদের বিষয়ও মাথায় রাখতে হয়েছে। এজন্য জিডিপিআরভুক্ত দেশ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আমেরিকান বাংলাদেশী বিজনেস কমিউনিটি, মেটা, গুগল, উবার, টেকপ্লাটফর্ম- প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা আলাদা আমাদের আলাপ করতে হয়েছে।
ছয় মাস ধরে এমন আলোচনা চলেছে জানিয়ে তিনি বলে, সবার সঙ্গে কনসাল্টেশনের মাধ্যমেই এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমরা এই আইনটি করেছি। এর মাধ্যমে একটি সিচ্যুয়েশনাল ক্যাপাসিটি অর্জন করেছি। এটা এসেছে একটি ইকো সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে। এজন্য পলিসি করতে আমরা বিদেশী কনসাল্টেন্ট ভাড়া করিনি।
তথ্য সুরক্ষা জ্ঞানে বাংলাদেশ স্তোনিয়া থেকে ২৫ বছর পিছিয়ে উল্লেখ ফয়েজ আরো বলেন, উপাত্তা সুরক্ষা নিয়ে আমাদের দীর্ঘ ২৫ বছরের যে পলিসি ও নলেজ এবং নলেজের সঙ্গে পলিসি ও গভর্ন্যান্সের যে গ্যাপ ওভারকাম করতে আমাদের পুরো ইকো-সিস্টেমের গভীরে যেতে হবে। এজন্য ডেটা নিয়ে কাজ করতে হলে ডেটার মালিকের সম্মতির কমপ্লায়েন্সের মাধ্যমে করতে হবে। আর এজন্যই একটি কর্তৃপক্ষ রাখা হয়েছে।
সেই গভীর অভিজ্ঞানের মধ্য দিয়ে ‘প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ‘প্লানফর্ম লাইয়াবেলিটি স্ট্রাটেজ ‘ ইনসিওর করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মেটা, গুগল এর মতো বড় বড় টেকাজায়ান্টগুলোকে এই আইনের ধারায় দায়বদ্ধ করায় একটি সফটওয়্যার কোম্পানির যদি মোট টার্নওভার ১০ লাখ টাকা হয়; তবে তাকে ২ কোটি টাকার সফটওয়্যার কিনে সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলতে পারবেন না। আবার আইনে কর্তৃপক্ষকে অবাধ ক্ষমতা দেয়া হয়নি। কোয়সি জুডিসিয়াল অথিরিটি রেখে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ক্ষমতাই কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে। দুইটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ওভারসিস প্রতিষ্ঠান হিসেবে কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালন করবে।’
আগে ডিজিটাল রূপান্তরের নামে করা আইনগুলোর মাধ্যমেই নাগরিকের তথ্য উপাত্ত ডার্কওয়েবে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে মন্তব্য করে ফয়েজ বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের সম্পদ, বিসিসি ও ডাটা সেন্টারের ডেটা ব্যবহার করে অন্যরা বিক্রি করেছে। তাই আজকে আমাদের বোঝা-পড়ার সময় এসেছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রণীত আইনটি সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদ সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হওয়ার বিষয়ে বিভাগের এই অবহিতকরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। এসময় বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



