গবেষণা থেকে সমাজে প্রয়োগেই এআইয়ের সাফল্য: আইইবি সেমিনারে বক্তারা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি ও নগর ব্যবস্থাপনায় কার্যকরভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করেই এআইয়ের প্রকৃত সামাজিক প্রভাব নিশ্চিত করা সম্ভব।
১৮ মে, সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দপ্তরের কাউন্সিল হলে আয়োজিত ‘Translational Artificial Intelligence: From Research to Societal Impact’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। আইইবির উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টার এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি) ডা. জাহেদ-উর রহমান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে এআই বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। মানুষের জীবনকে সহজ করতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের আচরণ বিশ্লেষণ এবং থেরাপি আরও কার্যকর করতে এই প্রযুক্তি ব্যাপক সহায়তক হতে পারে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব)–এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন স্মার্ট সিটি ব্যবস্থাপনায় উন্নত ক্যামেরা, সেন্সর ও ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে এআই ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান বিশ্বজুড়ে তৈরি পোশাক শিল্পে এআই ও রোবট প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ইতিবাচক দিক তুলে ধরার পাশাপাশি এর ফলে কর্মসংস্থানে প্রভাব এবং প্রযুক্তিনির্ভরতার ঝুঁকি নিয়েও ভাবার তাগিদ দেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটারকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী তানজিমা হাশেম। তিনি জানান, গবেষণাগারে উদ্ভাবিত এআই প্রযুক্তি যখন বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে সমাজ ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে, তখন সেটিই ‘Translational Artificial Intelligence’। স্বাস্থ্য খাতে রোগ নির্ণয়, কৃষিতে ফসলের রোগ শনাক্তকরণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিক্ষা খাতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শেখার ব্যবস্থায় এআই–ভিত্তিক প্রযুক্তির নানা ব্যবহার ও সম্ভাবনা তিনি বিশদভাবে তুলে ধরেন।
আইইবির সভাপতি ও রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে নগর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির প্রয়োগের পাশাপাশি ভবনে অনুমোদিত পার্কিং ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভাপতি জানান, সেমিনার থেকে আসা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে পাঠিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে আইইবির উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শাহানাজ শারমিন সরকার কর্তৃক ২০২৬–২০৩৬ মেয়াদের জন্য এআই–সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগকে সময়োপযোগী আখ্যা দেন এবং প্রযুক্তি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টারের সম্পাদক প্রকৌশলী ইশরাত জাহানের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তারা বাংলা ভাষায় তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধ করার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আইইবির বিভিন্ন বিভাগের নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য এবং বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিবিটেক/এফএ/এমআই



