সুইজারল্যান্ডে স্বেচ্ছামৃত্যুতে ব্যবহৃত হবে প্রযুক্তি-কফিন

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৫:২০  
যন্ত্রটির নাম ‘সারকো’। থ্রিডি প্রিন্টেড এ যন্ত্রটি ‘যন্ত্রণাহীন’ স্বেচ্ছামৃত্যুতে সহায়তা করবে। পরিবহনযোগ্য যন্ত্রটি তৈরি করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগজিট ইন্টারন্যাশনাল। ২০১৮ সালে এই যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেছেন ‘ডক্টর ডেথ, যার আসল নাম ফিলিপ নিটশে। অস্ট্রেলিয়ার এই চিকিৎসককে সবাই মৃত্যুর চিকিৎসক হিসেবেই চেনেন। তার উদ্ভাবিত কফিন আকৃতির এই যন্ত্রে কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে আর কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়িয়ে এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বেদনাহীন মৃত্যু ডেকে আনা হয়। যা মানুষকে ‘তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে এবং বেদনাহীনভাবে’ স্বেচ্ছামৃত্যুর সুযোগ দেবে। কোনো আতঙ্ক বা দম বন্ধ হওয়ার অনুভূতি বোধ হবে না। কেবল কফিনে একবার শুয়ে পড়লেই সব শেষ! যন্ত্রটি বাইরে থেকে পরিচালনা করার পাশাপাশি ভেতর থেকেও তা চালু করা যাবে। অর্থাৎ মৃত্যুর প্রত্যাশায় যে ব্যক্তি যন্ত্রটির ভিতর ঢুকবেন, তিনি নিজেও যন্ত্রটি চালাতে পারবেন। যন্ত্রণাময় অসুস্থতা থেকে মুক্তি পেতে স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিতে এই যন্ত্রটি ব্যবহার শুরু হচ্ছে রূপকথার দেশ সুইজারল্যান্ডে। এরই মধ্যে যন্ত্রণাপীড়িত জীবনের এ ধরনের মানুষদের স্বেচ্ছামৃত্যু বা আত্মহত্যায় সহায়তা করার জন্য নতুন এই যন্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে সুইজারল্যান্ড সরকার। ২০২২ সালের মধ্যে মৃত্যুর নতুন এই পরিষেবা চালু করার জন্য সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ শুরু করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এগজিট ইন্টারন্যাশনাল। তাদের হাতে থাকা দুইটি কফিনের পাশাপাশি আরো একটি যন্ত্র তৈরির জন্য থ্রিডি প্রিন্টিং করছে সংস্থাটি। বিশেষ এই কফিনটির নকশাকার আলেকজান্ডার ব্যানিঙ্ক। যন্ত্রণাময় অসুস্থতা থেকে মুক্তি পেতে স্বেচ্ছামৃত্যু বেশিরভাগ দেশে অবৈধ। তবে সুইজারল্যান্ডের পাশাপশি নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ এবং কানাডায় হাসপাতালে রোগীর অনুরোধের প্রেক্ষিতে সাধারণত সোডিয়াম পেন্টোবারবিটাল ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসক এক্ষেত্রে মৃত্যুবরণে সহায়তা করে থাকেন।