রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেল
রংপুরের কারখানার বিশ্বজয়
- বাংলাদেশের গ্রিন ফিল্ড কারখানা জিতেছে ২০২৬ সালের রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার
- সাততলা কারখানার নকশায় প্রকৃতি ও কর্মীদের সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে
- নকশা করেছে বাংলাদেশের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান নকশাবিদ আর্কিটেক্টস
রংপুরের গ্রিন ফিল্ড কারখানা জিতেছে স্থাপত্যের মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘রিবা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ২০২৬’। বাংলাদেশের কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের সাততলা গালিচা ও বস্ত্র কারখানাটির নকশায় প্রকৃতি, কর্মীদের সুস্থতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশকে গুরুত্ব দেওয়ায় পুরস্কারটি দিয়েছে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা)। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারকেরা ভবনটিকে ‘নীরব বিনয়ের এক কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গফুটের বেশি আয়তনের কারখানাটির নকশা করেছে বাংলাদেশের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান নকশাবিদ আর্কিটেক্টস। প্রচলিত শিল্পকারখানার ধারণার বাইরে গিয়ে ভবনটিতে সবুজ আঙিনা, পুকুরঘেঁষা হাঁটার পথ, গাছপালায় আচ্ছাদিত সম্মুখভাগ এবং বিশ্রাম ও সামাজিক যোগাযোগের জায়গা রাখা হয়েছে। নকশায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ বসতবাড়ির উঠান ও পুকুরকেন্দ্রিক বিন্যাসের প্রভাব রয়েছে।
কারখানাটিতে কর্মীদের জন্য ছাদে শিশু পরিচর্যাকেন্দ্র, চিকিৎসাসেবা এবং ছায়াঘেরা বসার জায়গার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রবেশপথে স্থাপিত নারীমূর্তিটি নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে নকশাবিদদের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে। কারখানাটিতে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী কাজ করেন, যাঁদের অধিকাংশই নারী।
রিবার বিচারক দল চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কারখানাটি পরিদর্শন করে। তাদের মতে, প্রকল্পটি কারখানার নকশা ও পরিচালনায় বিকল্প মডেল উপস্থাপন করেছে। কর্মী, ব্যবস্থাপক ও মালিকদের একই প্রবেশপথ ব্যবহারের বিষয়টিও বিচারকদের নজর কেড়েছে। জুরি চেয়ারম্যান বিজয় জৈন এ প্রবেশপথকে সবার জন্য সমান একটি যৌথ পরিসর হিসেবে বর্ণনা করেন।
নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের প্রতিষ্ঠাতা বায়েজিদ এম খন্দকারের ভাষ্য, শিল্প যেন শ্বাস নিতে পারে, পরিচর্যা করতে পারে এবং অনুপ্রেরণা জোগায়—এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠা করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। তাঁর কথায়, কারখানা এমন কোনো যন্ত্র হওয়া উচিত নয়, যা মানুষের শক্তি নিঃশেষ করে; বরং এটি এমন জীবন্ত জায়গা হওয়া উচিত, যা মানুষের শক্তি ফিরিয়ে দেয়।
গ্রিন ফিল্ড কারখানার পাশাপাশি ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও এ বছরের পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল। তালিকার অন্য দুটি প্রকল্প বেলজিয়ামের—একটি ১৯৬০-এর দশকের অফিস ভবনের সংস্কার এবং অন্যটি একটি শিল্পকলা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ।
রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার দুই বছর পরপর দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের বাইরে নির্মিত এমন স্থাপত্যকর্মকে এ পুরস্কারে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যেগুলো উদ্ভাবনী চিন্তা, নকশার উৎকর্ষ এবং ব্যবহারকারী ও পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাবের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
//ডিবিটেক/সিএনএন/এসএমপি/এমআইএসটি//





