সাহাবিদের প্রিয় নফল ইবাদত
ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি মুমিনের আত্মাকে পরিশুদ্ধ ও আল্লাহর নিকটবর্তী করতে নফল ইবাদতের বিকল্প নেই। অনেকে হয়তো নফল ইবাদতকে কম গুরুত্ব দেন, অথচ এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহর বিশেষ ভালোবাসা ও নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। এমনকি অবশেষে আমি তাকে এমন প্রিয়পাত্র বানিয়ে […] The post সাহাবিদের প্রিয় নফল ইবাদত first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি মুমিনের আত্মাকে পরিশুদ্ধ ও আল্লাহর নিকটবর্তী করতে নফল ইবাদতের বিকল্প নেই। অনেকে হয়তো নফল ইবাদতকে কম গুরুত্ব দেন, অথচ এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহর বিশেষ ভালোবাসা ও নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
“বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। এমনকি অবশেষে আমি তাকে এমন প্রিয়পাত্র বানিয়ে নিই যে, আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে; আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে; আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে এবং আমিই তার পা হয়ে যাই, যার দ্বারা সে চলে।” (সহিহ বুখারি: ৬৫০২)
হজরত সাহাবায়ে কেরাম (রা.) নফল ইবাদতের এই সুমহান গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন এবং নিয়মিত তা আমল করার চেষ্টা করতেন। তাদের অনুপম আদর্শ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উৎসাহের আলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নফল ইবাদত নিচে তুলে ধরা হলো…
তাহাজ্জুদ নামাজ
রাতের শেষ ভাগে ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও মর্যাদাবান ইবাদত। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) এই নামাজের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন।
একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, “আবদুল্লাহ কতই না উত্তম মানুষ! যদি সে রাতে নামাজ আদায় করত!” (সহিহ বুখারি: ৩৭৩৮, ৩৭৩৯) এরপর থেকে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) রাতের সামান্য সময়ই ঘুমাতেন এবং বাকি সময় নামাজে কাটিয়ে দিতেন।
চাশত বা দোহার নামাজ
সূর্য ওঠার কিছু সময় পর থেকে দুপুরের আগ পর্যন্ত চাশতের নামাজ আদায় করা যায়। এটি মুমিনের রুটিনভিত্তিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নফল ইবাদত।
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, “আমার প্রিয় বন্ধু রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন: প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, দুই রাকাত চাশত/দোহার নামাজ আদায় করা এবং ঘুমানোর আগে বিতর নামাজ পড়া।” (সহিহ বুখারি: ১৯৮১, সহিহ মুসলিম: ৭২১) আবু হুরায়রা (রা.) এই অসিয়তগুলো জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করার সংকল্প করেছিলেন।
প্রতি মাসে তিন দিন নফল রোজা
প্রতি মাসে তিন দিন নফল রোজা রাখার বিশেষ বরকত ও ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের এই আমলটি নিয়মিত করার অসিয়ত করেছিলেন। যেমন—আবু দারদা (রা.)-কে নবীজি (সা.) প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। (সহিহ মুসলিম: ৭২২)
আরাফা ও আশুরার রোজা
রমজানের বাইরে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ নফল রোজার মধ্যে আরাফা ও আশুরার রোজা অন্যতম। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
আরাফার দিনের রোজা: এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার কাছে বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করার আশা করা যায়।
আশুরার দিনের রোজা: এর মাধ্যমে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হওয়ার আশা করা যায়। (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত
সাহাবায়ে কেরাম কোরআন তিলাওয়াতের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত যত্নবান। তারা প্রতিদিন তিলাওয়াতের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ঠিক করে নিতেন এবং তা নিয়মিত আদায় করতেন। অনেক সাহাবি প্রতি সাত দিনে একবার পুরো কোরআন খতম করতেন।
হজরত আয়েশা (রা.) কখনো কখনো বিছানায় শুয়েও নিজের নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতের অংশটুকু আদায় করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৩০৮০৮)
উসমান ইবনে আফফান (রা.) ফজর পর্যন্ত এক রাকাতেই পুরো কোরআন খতম করতেন বলে আসারে বর্ণিত হয়েছে। (ফাযায়েলে কুরআন: ১/৩৫১)
নিয়মিত জিকির ও তাসবিহ
সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর জিকিরকে জীবনের অন্যতম প্রধান আমল হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। অবসর সময়ে, চলাফেরায় এবং দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে তারা আল্লাহকে স্মরণ করতেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ পড়বে, তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনার সমান হলেও ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারি: ৬৪০৫)
অন্য হাদিসে এসেছে, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কালাম চারটি: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার। (সহিহ মুসলিম: ৫৪১৬)
অল্প হলেও নিয়মিত আমলের সৌন্দর্য
সাহাবিদের জীবন আমাদের শেখায় যে ইবাদতের ক্ষেত্রে পরিমাণের চেয়ে ধারাবাহিকতা ও নিয়মিত হওয়াটা অনেক বেশি মূল্যবান। একসাথে অনেক নফল ইবাদত শুরু করে পরে তা ঝেড়ে ফেলে দেওয়ার চেয়ে, সাধ্যমতো অল্প কিছু আমল নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, “আল্লাহর কাছে কোন আমল সর্বাধিক প্রিয়?” তিনি উত্তর দিলেন, “যে আমল সর্বদা করা হয়, চাই তা পরিমাণ কম হোক না কেন।” (সহিহ বুখারি: ৬৪৬৫)
তাই ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি আসুন, সাহাবিদের সুন্নতের অনুসরণে আমরাও নিয়মিত কিছু নফল ইবাদত ও জিকিরের অভ্যাস গড়ে তুলি, যাতে উভয় জাহানে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করতে পারি।
The post সাহাবিদের প্রিয় নফল ইবাদত first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.





