এমটিবির সঙ্গে অংশীদারত্বে ডিজিটাল পেমেন্ট
প্রথম অপারেটর হিসেবে বাংলা কিউআর চালু গ্রামীণফোনের
- গ্রামীণফোনের এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে বাংলা কিউআরে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন গ্রাহকরা।
- প্রাথমিকভাবে গুলশান, বসুন্ধরা ও চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে সেবা চালু।
- এমটিবির সঙ্গে অংশীদারত্বে নগদবিহীন লেনদেনের সুযোগ তৈরি হলো।
দেশের প্রথম টেলিকম অপারেটর হিসেবে নিজেদের ব্র্যান্ডেড রিটেইল স্টোরে বাংলা কিউআর পেমেন্ট চালু করেছে গ্রামীণফোন। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির (এমটিবি) সঙ্গে অংশীদারত্বে চালু হওয়া এ সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা বা পেমেন্ট সেবাদাতার অ্যাপ ব্যবহার করে কিউআর কোড স্ক্যান করেই মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এতে নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি গ্রাহকদের ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ বাড়বে।
বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) রাজধানীর গুলশানে গ্রামীণফোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবাটির উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর গুলশান ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের গ্রামীণফোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারগুলোতে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।
বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের অ্যাপ ব্যবহার করে সরাসরি নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। জাতীয় কিউআর মান অনুসরণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একটি অভিন্ন মার্চেন্ট কোড ব্যবহার করেই লেনদেন করা যাবে। এতে নগদ অর্থের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি গ্রাহকদের পছন্দ অনুযায়ী অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি হবে।
‘এক দেশ, এক কিউআর’ ধারণার আওতায় সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা জোরদার করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় গ্রামীণফোন এ সেবা চালু করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। এ সময় এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এবং গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার অটো মাগনে রিসব্যাক এবং চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ। এমটিবির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ বিজনেস অফিসার চৌধুরী আখতার আসিফ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মো. শাফকাত হোসেন এবং চিফ ডিজিটাল অফিসার খালিদ হোসেন। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অন্যতম চালিকাশক্তি হচ্ছে সংযোগ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন। দেশে আরও সমন্বিত ও দক্ষ ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে গ্রামীণফোনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই এবং এ উপলক্ষ্যে এখানে উপস্থিত হতে পেরে আমি আনন্দিত। আর্থিক সেবাকে আরও সহজলভ্য করতে, তরুণদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ক্রমবর্ধমান ক্যাশলেস অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে শিল্প-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এই উদ্যোগে যুক্ত হবে বলে আমার প্রত্যাশা।”
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, “গ্রামীণফোনে গ্রাহক-কেন্দ্রিকতা আমাদের গ্রাহকদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাগুলোকে আরও সহজ ও সুবিধাজনক করতে আমাদের প্রেরণা জোগায়। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা উদ্ভাবনকে আরও বেগবান করে। আর এমটিবির সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্ব বাংলা কিউআরের মাধ্যমে এই অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। গ্রাহকরা এখন নগদ টাকার এবং ভাঙতি টাকার জন্য অপেক্ষার বিষয়টি ছাড়াই ফোনের মাধ্যমে সহজে স্ক্যান করে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এটি ডিজিটাল পেমেন্টকে বাস্তবসম্মত দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করবে, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে বিস্তৃত করতে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে আরও বেশি মানুষকে যুক্ত হতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের জন্য আরও নিরাপদ ও স্মার্ট আগামী গড়ে তোলা; পাশাপাশি দেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির ভিশনে অবদান রাখা।”
এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “আরও বেশি গ্রাহকের কাছে স্ক্যান-টু-পেমেন্টের মতো সহজ সুবিধা পৌঁছে দিতে গ্রামীণফোনের সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পেরে আমরা আনন্দিত। পেমেন্ট সম্পর্কে আমাদের বিশেষ অভিজ্ঞতার সঙ্গে গ্রামীণফোনের বিস্তৃত রিটেইলের সমন্বয়ে আমরা দৈনন্দিন লেনদেনকে আরও সুবিধাজনক করে তুলেছি এবং দেশজুড়ে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যাপক প্রসার ও ব্যবহারে অবদান রাখছি।”
বাংলাদেশ ব্যাংক দৈনিক এক কোটি ডিজিটাল লেনদেনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, গ্রাহকদের দৈনন্দিন কেনাকাটায় বাংলা কিউআর সেবা চালুর মাধ্যমে সেই জাতীয় লক্ষ্য অর্জনেও ভূমিকা রাখতে চায় গ্রামীণফোন। বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছে সেবাটি পৌঁছে দিয়ে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়ানো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।
//ডিবিটেক/এমআরআইপি/এসএমপি/এমআইএসটি//





