আইফোন ডুয়ো মেরামতের অতিরিক্ত চাপে হিমশিম খাচ্ছে অ্যাপল
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুয়ো’ বাজারজাতকরণের শুরুতেই বড় ধরনের অপারেশনাল জটিলতার মুখে পড়েছে। ডিভাইসের স্ক্রিন ফেটে যাওয়া বা ডিসপ্লেতে নানা ত্রুটির ঘটনা- যা প্রযুক্তিপাড়ায় ‘ক্র্যাকগেট’ নামে পরিচিতি পেয়েছে- তার জেরে বিশ্বজুড়ে অ্যাপল স্টোরগুলোতে মেরামতের জন্য উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অতিরিক্ত এই চাপের কারণে অ্যাপল তাদের ঐতিহ্যবাহী গ্রাহকসেবা স্বাভাবিকভাবে বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
গ্রাহক ক্ষোভ ও রিপ্লেসমেন্ট প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে এক আইফোন ডুয়ো ব্যবহারকারীর শেয়ার করা অভিজ্ঞতা প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। তিনি জানান, নতুন কেনা ফোল্ডেবল ডিভাইসটির স্ক্রিনে আকস্মিক দাগ বা বাম্প দেখা দিলে অ্যাপল কেয়ার প্রতিনিধি প্রাথমিকভাবে এটিকে প্রস্তুতকারকজনিত ত্রুটি হিসেবে স্বীকার করেন।
তবে অ্যাপলকেয়ার প্লাস গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য বহুল প্রচলিত ‘এক্সপ্রেস রিপ্লেসমেন্ট’ (পুরোনো ফোন জমা দেওয়ার আগেই ডাকযোগে নতুন ডিভাইস পাঠানো) সুবিধাটি চাইতে গেলে তিনি বাধার সম্মুখীন হন। অ্যাপলের পক্ষ থেকে বলা হয়, মেরামতের অতিরিক্ত আবেদনের কারণে বর্তমানে এই সুবিধাটি স্থগিত রাখা হয়েছে।
এমনকি ওই গ্রাহককে সরাসরি নতুন ফোন পেতে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলেও জানানো হয়।
আরও অদ্ভুত বিষয় হলো, পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে অ্যাপল প্রতিনিধি আগের কথা বদলে জানান যে, ওয়ারেন্টির অধীনে বিনা খরচে ফোনটি বদলে দেওয়া সম্ভব নয়; বরং গ্রাহককে নিজ খরচে ডিভাইসটি মেরামত করতে হবে।
পরবর্তীতে স্টোর ম্যানেজারের হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান মিললেও, প্রিমিয়াম গ্রাহকদের প্রতি অ্যাপল কেয়ারের এমন অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ ক্রেতাদের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
দাবি ও বাস্তবতার বৈপরীত্য
অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে যে, অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক আইফোন ডুয়ো এই ডিসপ্লে বা হিঞ্জ ত্রুটির শিকার হয়েছে। তবে ব্লুমবার্গের প্রখ্যাত প্রযুক্তি বিশ্লেষক মার্ক গুরম্যান মনে করেন, অ্যাপলের ভাষ্যমতে ‘কম সংখ্যক’ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইসের প্রকৃত সংখ্যা আদতে হাজার হাজার হতে পারে।
অ্যাপলের এক দাবির সাথে অন্য দাবির স্পষ্ট অমিলও এখানে ফুটে উঠেছে- একদিকে তারা দাবি করছে সমস্যাটি সামান্য, অন্যদিকে ‘অতিরিক্ত মেরামতের চাপ’-এর কথা বলে সেবা দিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করছে।
বিখ্যাত ইউটিউবার মার্কোস ব্রাউনলিসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় পর্যালোচকেরা নতুন এই ফোল্ডেবল ফোনের স্থায়িত্ব এবং অ্যাপলের এই ধোঁয়াশাচ্ছন্ন নীতি নিয়ে খোলাখুলি সমালোচনা করেছেন। প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার ডলার মূল্যের প্রিমিয়াম ফোল্ডেবল সেগমেন্টে শুরুতেই এমন বিপর্যয় টেক জায়ান্টটির ব্র্যান্ড ইমেজকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: ফোনএরিনা





