অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বিস্তৃত করতে বাংলাদেশ-কোরিয়া সম্মত

বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপের মাধ্যমে বাংলাদেশ-কোরিয়ার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এক নতুন ধাপে প্রবেশ করবে বলে প্রত্যাশা করছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সিউলে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম […] The post অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বিস্তৃত করতে বাংলাদেশ-কোরিয়া সম্মত first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বিস্তৃত করতে বাংলাদেশ-কোরিয়া সম্মত
৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১৬:০০  

বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপের মাধ্যমে বাংলাদেশ-কোরিয়ার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এক নতুন ধাপে প্রবেশ করবে বলে প্রত্যাশা করছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সিউলে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প, অবকাঠামো ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতের সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ কেবল সহজ শর্তে ঋণের বাইরেও কোরিয়ার সাথে আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের কোরিয়া সফরের দ্বিতীয় কার্যদিবসে এ অঙ্গীকার আরও জোরালো হয়েছে।
বাংলাদেশ পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের রূপান্তরের পরবর্তী পর্যায়ে কোরিয়া একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা উন্নয়ন অর্থায়নের পাশাপাশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিল্প অংশীদারিত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজি সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা করতে পারে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দ্বিতীয় কার্যদিবসে কোরিয়া সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এক্সিম ব্যাংক (KEXIM), কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন (KIC) এবং শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কৌশলগত অর্থনৈতিক সংলাপ

রিপাবলিক অফ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হু-এর সাথে পৃথক এক বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বাংলাদেশ-কোরিয়া সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নত উৎপাদন শিল্প, জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুযোগগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করে।
এছাড়া, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর সহায়তায় পরিচালিত ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (IGND) উদ্যোগের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে কোরিয়া যে কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ তার প্রশংসা করে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী কোরিয়াকে এই উদ্যোগের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

জবাবে কোরিয়া পক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল রূপান্তর, বিকল্প অর্থায়ন, ভবিষ্যতে ইডিসিএফ (EDCF)-এর আওতায় সহযোগিতা এবং আইজিএনডি (IGND)-তে আরও বৃহত্তর সম্পৃক্ততার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

কোরিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সংগ্রহ

কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন (KIC)-এর সাথে আলোচনায় বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং অন্যান্য বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক খাতে প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজি সংগ্রহের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সভরিন ফান্ড’ (যার সম্ভাব্য আকার ১-২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে) নিয়ে একটি সম্ভাব্য বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে আলোচনা করা হয়। এছাড়া, কোরিয়ান ফান্ড ম্যানেজারদের মাধ্যমে কেআইসি (KIC)-এর ইকুইটি বিনিয়োগ এবং কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের (Korea Eximbank) অর্থায়নকে একত্রিত করার সম্ভাবনা নিয়েও উভয় পক্ষ আলোচনা করেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিজিটাল রূপান্তর

বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যকার সহযোগিতার একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) উঠে এসেছে। বাংলাদেশের এআই-সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রার সাথে কোরিয়া সরকারের এআই ও ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইডিসিএফ (EDCF) সহযোগিতা ও অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পসমূহ

এক্সিম ব্যাংক (KEXIM)-এর চেয়ারম্যান ও সিইও হোয়াং কিয়েন-এর সাথে এক বৈঠকে উভয় পক্ষ ২০২৩-২০২৭ মেয়াদে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘ইডিসিএফ ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্ট’ (EDCF Framework Arrangement) পর্যালোচনা করে। এছাড়া, ঢাকা এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট), মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রড-গেজ যাত্রীবাহী বগি সংগ্রহের মতো অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

এক্সিম ব্যাংক জানায় যে, ইডিসিএফ-এর অগ্রাধিকার খাতগুলো বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কোরিয়ান কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ সাপেক্ষে নতুন প্রকল্প প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশ পক্ষ ইডিসিএফ-এর অবশিষ্ট তহবিলের ব্যবহারের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রস্তাব করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট অবকাঠামো ও টেকসই সরবরাহ শৃঙ্খলের (resilient supply chains) মতো উদীয়মান খাতগুলোর ওপর আলোকপাত করে।

‘এলজি এআই রিসার্চ’ (LG AI Research)-এর সাথে আলোচনায়, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ভাষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ (LLM) তৈরি এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প ও জনসেবায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ নিজেকে একটি আঞ্চলিক এআই ও ডেটা-সেন্টার হাব হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে। অন্যদিকে, ‘ফিউরিওসা এআই’ (FuriosaAI)-এর সাথে আলোচনায় বাংলাদেশের উচ্চ-মূল্য সংযোজনকারী এআই ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক (KEXIM) এআই-যুক্ত অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

কোরিয়ার বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ

বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল কোরিয়ান কোম্পানিগুলোর সাথে জ্বালানি, এলএনজি (LNG), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, উন্নত উৎপাদন শিল্প, নগর উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছে। এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ এবং পিপিপি (PPP) অংশীদারিত্বের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

-ছবি : সংগৃহীত

‘স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি’ (Samsung C&T)-এর সাথে আলোচনায় বাংলাদেশ অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নগর উন্নয়ন, পর্যটন এবং পিপিপি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে; যার মধ্যে রয়েছে রুফটপ ও ইউটিলিটি-স্কেল সোলার প্রকল্প এবং বিভিন্ন নগর উন্নয়ন উদ্যোগ। স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি কেবল ইপিসি (EPC) ঠিকাদারি কাজের বাইরে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে আগ্রহী হওয়ার কথা জানিয়েছে এবং উভয় পক্ষই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর বিষয়ে কারিগরি আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।
‘ইয়াংওয়ান’ (Youngone) কর্তৃক আয়োজিত কোরিয়ান বিনিয়োগ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে, বাংলাদেশ হালকা প্রকৌশল (light engineering) ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতে বিদ্যমান সুযোগগুলো তুলে ধরে। এসময় কোরিয়ান কোম্পানিগুলোকে যৌথ উদ্যোগ (joint venture) গ্রহণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কোরিয়ান ভ্যালু চেইনে বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উৎসাহিত করা হয়। একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পথে
আলোচনাগুলোতে বাংলাদেশ-কোরিয়া সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের অভিন্ন আগ্রহ প্রতিফলিত হয়েছে।

The post অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বিস্তৃত করতে বাংলাদেশ-কোরিয়া সম্মত first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.