এআই ব্যান থাকলে গুগলের সার্চ সুবিধাও পাবে না শিক্ষার্থীরা

এআই ব্যান থাকলে গুগলের সার্চ সুবিধাও পাবে না শিক্ষার্থীরা
৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫০  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় গুগলের সাধারণ সার্চ ইঞ্জিন ও ডিজিটাল সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। বিশ্বজুড়ে স্কুল পর্যায়ে এআই চ্যাটবটের অবাধ ব্যবহার নিয়ে নীতিনির্ধারকদের কড়াকড়ি বাড়ার প্রেক্ষাপটে গুগলের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষাঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এআই নীতিমালায় গুগলের কড়া শর্ত
গুগলের শিক্ষাবিষয়ক প্রধান ও মহাব্যবস্থাপক ক্রিস ফিলিপস প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে জানান, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষা খাতের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে স্কুল পর্যায়ের (কে-টুয়েলভ) শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ন্ত্রণ নীতি আনা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে স্কুল প্রশাসকরা স্পষ্টভাবে অনুমতি না দিলে শিক্ষার্থীদের জন্য জেমিনি, জেমিনি নোটবুক এবং ক্লাসরুমের এআই ফিচারগুলো সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকবে।

তবে সবচেয়ে বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনটি আসছে গুগল সার্চের ক্ষেত্রে। গুগল পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের আধুনিক সার্চ ইঞ্জিনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে কোনো স্কুল যদি তাদের ক্যাম্পাসে বা নেটওয়ার্কে এআই টুল ব্যবহার নিষিদ্ধ করে, তবে শিক্ষার্থীরা গুগলের সার্চ সুবিধাও ব্যবহার করতে পারবে না।

এর পরিবর্তে তাদের ব্রাউজার স্ক্রিনে স্কুল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার বার্তা প্রদর্শিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বহু দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রোমবুক এবং গুগলের ডিজিটাল শিক্ষামূলক অ্যাপ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় এই কড়া সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

শিক্ষার্থীদের নকল প্রতিরোধে ‘গাইডেড লার্নিং’
সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো বড় বড় শহরগুলোর স্কুলগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের জন্য এআই চ্যাটবট ব্যবহারে আইনি নিষেধাজ্ঞা বা এক বছরের স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং শিক্ষার্থীদের চ্যাটবটনির্ভরতা কমিয়ে মূল পড়াশোনায় মনোযোগী রাখতে গুগল ‘গাইডেড লার্নিং’ নামক একটি বিশেষ শিক্ষামূলক ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কোনো জটিল হোমওয়ার্ক বা গবেষণামূলক কাজের জন্য সরাসরি চ্যাটবটের কাছে চূড়ান্ত উত্তর পাবে না। বরং এআই সহকারীটি ধাপে ধাপে প্রশ্ন ভেঙে শিক্ষার্থীদের নিজের বুদ্ধিমত্তায় সমস্যা সমাধান করতে এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা বাড়াতে সহায়তা করবে।

শুধু তাই নয়, শিক্ষকরা চাইলে শিক্ষার্থীদের চ্যাটবট ব্যবহারের ইতিহাস বা চ্যাট প্রতিলিপিও যাচাই করতে পারবেন। চলতি মাস থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ফিচারের পরীক্ষামূলক বা বিটা কার্যক্রম শুরু হবে।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।   সূত্র: এনগ্যাজেট