খননযোগ্য খাল

১ মার্চের মধ্যে উপজেলা নির্বাহীদের হালনাগাদ তথ্য দিতে হবে গুগল ফর্মে

১ মার্চের মধ্যে উপজেলা নির্বাহীদের হালনাগাদ তথ্য দিতে হবে গুগল ফর্মে
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০১:২৬  
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৩৯  

 ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিঅনুযায়ী, আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। এজন্য সরকার গঠনের পরেই সত্তরের দশকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল কাটা কর্মসূচি আবার ফিরিয়ে আনতে এবার প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। একক কোনো মন্ত্রণালয়ের ওপর দায়িত্ব না দিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সমন্বিত ভাবে এই উদ্যোগ বাস্তাবায়ন শুরু করছে। 

এদিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিক এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে২২ ফেব্রুয়ারি, রবিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে একটি জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ কর্মসূচি-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শাহ মো. শামসুজ্জোহা স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে প্রতিটি উপজেলা থেকে খননযোগ্য খালের হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে সারাদেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে সর্বাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ এবং আইনি জটিলতামুক্ত, নিষ্কণ্টক, অন্তত ২টি খালের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের হার্ডকপির পরিবর্তে সরাসরি গুগল ফর্মের মাধ্যমে তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।

চলতি বছরের ১ মার্চের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এই তথ্য পাঠানোর সময় সীমা বেধে দেয়া হয়েছে চিঠিতে। সেখানে শুধু খনন নয়, খালের দুই পাড়ে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করার পরিকল্পনাও উল্লেখ রয়েছে। 

একইভাবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে খননযোগ্য খালের তালিকা তৈরি করে পাঠানো শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। আর সরকারি বাজেটের টিআর, কাবিখা-কাবিটা এবং ইজিপিপি, ইজি পিপি, প্রকল্পের আওতায় এই খননকাজ পরিচালনা করার উদ্যোগ নিয়েছে  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।  

সূত্রমতে, খালখননের এসব কার্যক্রমে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করবে সরকার। একইসঙ্গে খননকৃত খাল ও রোপিত গাছের সংখ্যা নিরুপণ ও দেখভালেও ব্যবহৃত হবে এআই প্রযুক্তি। আর পুরোকার্যক্রমই দৃশ্যমান করা হবে জিওলোকেশন ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে। গুগল আর্থ থেকে নগারিকরা এই কার্যক্রম দেখতে পারবেন বলেও নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে দেয়া এক বক্তব্যে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

প্রসঙ্গত,  গত ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে খাল কাটা কর্মসূচির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের জানান, শহীদ জিয়ার সময় খাল কাটা কর্মসূচি একটি বিপ্লবে পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায় দেশের খালগুলো নাব্যতা হারিয়েছে, যার ফলে কৃষকরা সেচ সংকটে ভুগছেন এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তা দূর করতেই প্রণীত নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী খালকাটা কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৮০ দিনের, অর্থাৎ ৬ মাসের মধ্যে খাল কাটার কার্যক্রম দৃশ্যমান করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

ডিবিটেক/বিইউডিএম/এমইউএম