সুন্দরবন বাঁচিয়ে ইকো-ট্যুরিজম রক্ষার আকুতি, প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি

ঢাকা: সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে পরিবেশবান্ধব টেকসই ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তুলতে এবং বিদ্যমান প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার প্রান্তিক পর্যটন উদ্যোক্তারা। মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চিত্র এবং ইকো-ট্যুরিজমের নামে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের বাস্তবতা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সুন্দরবন সংলগ্ন রিসোর্টগুলোতে আসার আন্তরিক আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তারা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ‘রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন […] The post সুন্দরবন বাঁচি

সুন্দরবন বাঁচিয়ে ইকো-ট্যুরিজম রক্ষার আকুতি, প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:০০  

ঢাকা: সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে পরিবেশবান্ধব টেকসই ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তুলতে এবং বিদ্যমান প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার প্রান্তিক পর্যটন উদ্যোক্তারা। মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চিত্র এবং ইকো-ট্যুরিজমের নামে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের বাস্তবতা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সুন্দরবন সংলগ্ন রিসোর্টগুলোতে আসার আন্তরিক আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ‘রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন’-এর সেক্রেটারি এবং ‘জংগলবাড়ি ম্যানগ্রোভ রিসোর্ট’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া হোসাইন শাওন স্বাক্ষরিত এক খোলা চিঠিতে এই আকুল আবেদন জানানো হয়।

চিঠিতে উদ্যোক্তারা জানান, খুলনার দাকোপের বানিশান্তা ও কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের সুন্দরবন পেরিফেরি এলাকায় প্রায় ১৭ কিলোমিটারজুড়ে বর্তমানে ১৫টি পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এসব রিসোর্টে কর্মরত ১৫৩ জনের মধ্যে ১৩৫ জনই স্থানীয় অধিবাসী। এছাড়া পর্যটনকে কেন্দ্র করে বোট সার্ভিস, স্থানীয় দোকান, পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ ও খামারসহ আরও ৫৮টি ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। যার ওপর ওই অঞ্চলের প্রায় ৭ হাজার ৩০০ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জীবিকা নির্ভর করছে। এই উদ্যোগ সুন্দরবনের ওপর স্থানীয়দের ব্যাকুল নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

তবে এই সম্ভাবনাময় খাতের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও সরকারি দপ্তরগুলোর আন্তঃদাপ্তরিক সমন্বয়হীনতা। স্পষ্ট নীতিমালা ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ ও স্থানীয়দের কর্মসংস্থান এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

উদ্যোক্তারা চিঠিতে স্পষ্ট করেন করেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো আপস চান না। তারা আইন মেনে এবং পরিবেশগত শর্ত পূরণ করেই ব্যবসা পরিচালনা করতে আগ্রহী। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চারটি মূল দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন:

  • সুন্দরবন সংলগ্ন পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় টেকসই ইকো-ট্যুরিজমের জন্য সুস্পষ্ট গাইডলাইন প্রণয়ন।
  • অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা।
  • সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা।
  • বিদ্যমান বিনিয়োগগুলোর আইনসম্মত ও স্বচ্ছ পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান।

খোলা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলা হয়, নীতিমালার বক্তব্য ও মাঠের বাস্তবতার যে ব্যবধান, তা সরেজমিনে দেখার জন্য আপনাকে আমাদের রিসোর্টগুলো পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনার এই সফর উপকূলের মানুষের কথা শোনা, তরুণদের উদ্যোগ বোঝা এবং পরিবেশ সুরক্ষার সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। সুন্দরবন রক্ষা এবং উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ইতিবাচক নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সুন্দরবনের ইকো-ট্যুরিজম উদ্যোক্তারা।

The post সুন্দরবন বাঁচিয়ে ইকো-ট্যুরিজম রক্ষার আকুতি, প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.