শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক আন্তর্জাতিক বিচারক নাভি পিল্লাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে তার নাম ঘোষণা করা হয়। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান জর্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস জানান, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রসারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পিল্লাইকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পিল্লাই আন্তর্জাতিক আইনের পরিধি ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে […] The post শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই first appeared on Sarabangla | Breaking News | Spo

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক আন্তর্জাতিক বিচারক নাভি পিল্লাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে তার নাম ঘোষণা করা হয়।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান জর্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস জানান, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রসারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পিল্লাইকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পিল্লাই আন্তর্জাতিক আইনের পরিধি ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করেছেন এবং আরও ব্যাপক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রশংসা করে নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় গভীর বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে একজন আইনজীবী হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল। পিল্লাইয়ের কাজ শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী মানুষের জন্য আশা ও অনুপ্রেরণার উৎস।
ফ্রাইডনেস জানান, পুরস্কার ঘোষণার সময় পর্যন্ত নোবেল কমিটি পিল্লাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে সুখবরটি জানাতে পারেনি।
পুরস্কার ঘোষণা করে নোবেল কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, এমন এক সময়ে যখন যুদ্ধ ও সংঘাত বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিচারক ও প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়ছে, তখন কমিটি মনে করিয়ে দিতে চায়-বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা ছাড়া সংঘাত নিরসনের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের ওপর নির্ভরশীল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মতো আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা শান্তিপূর্ণ বিশ্বের পূর্বশর্ত।
পুরস্কার ঘোষণার সময় পিল্লাই ছিলেন নুরেমবার্গে
জার্মানির নুরেমবার্গে একটি আইনবিষয়ক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় পুরস্কার পাওয়ার খবর পান পিল্লাই। তিনি তখন যে ভবনটিতে ছিলেন, সেখানে ১৯৪৫-১৯৪৬ সালে নাৎসিদের অপরাধের বিচার করতে প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল।
পুরস্কার পাওয়ার উদ্যাপনে জড়ো হওয়া মানুষের উদ্দেশে পিল্লাই বলেন, ‘আমি সবশেষ যে কাজটি করেছি, তা হলো গাজাবিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা, যেখানে সেখানে যা ঘটছে, তাকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।’ মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাঁকে এ কথা বলতে দেখা যায়।
হাসির মধ্যে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি আরেকটু বেশি হাততালি দেন, তাহলে আমি হয়তো এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।’
গত বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সিদ্ধান্তের প্রতি এটি একটি ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ভেনেজুয়েলার পক্ষে নিজের প্রচারণায় সমর্থন আদায়ে সহায়তা পাওয়ার আশায় গত জানুয়ারিতে তিনি তার নোবেল পদক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
কে এই নাভি পিল্লাই
১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্ম নেন নাভি পিল্লাই। আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াই শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইনি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। নাভি পিল্লাই প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে আইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৮ সালে সেখান থেকে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
চার বছর পর নাভি পিল্লাই রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটিআর) বিচারক ও সভাপতি হন। সেখানে যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও ঘৃণার ছড়ানোর মতো কর্মকাণ্ড কীভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে বিচারের আওতায় আসতে পারে, তা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন তিনি।
পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার (ওএইচসিএইচআর) ছিলেন।
ইসরায়েলে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতি হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) অস্থায়ী বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নোবেল শান্তি পুরস্কার
সাহিত্য, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে পুরস্কার ঘোষণার পর এ সপ্তাহে দেওয়া পঞ্চম নোবেল পুরস্কার হলো শান্তি পুরস্কার। এ বছর এ পুরস্কারের ১২৫তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে অবস্থিত নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ বছরের পুরস্কারের জন্য ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মনোনয়ন পেয়েছে। মনোনীতদের এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্বের প্রসার এবং এসব লক্ষ্য অর্জনে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নোবেল কমিটির বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
গত বছর ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। দেশটিতে গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য তার সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। নোবেল কমিটি তাকে এমন একজন নারী হিসেবে বর্ণনা করেছিল, যিনি ক্রমবর্ধমান অন্ধকারের মধ্যেও গণতন্ত্রের মশাল জ্বালিয়ে রেখেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মাচাদো তার নোবেল পদক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়েছিলেন। তবে সেটি ছিল প্রতীকী পদক্ষেপ। নোবেল কমিটি জানায়, পুরস্কারটি আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য কারও কাছে হস্তান্তরযোগ্য নয়।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। পুরস্কারটি আগামী ১০ ডিসেম্বর অসলোতে প্রদান করা হবে। দিনটি সুইডিশ শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী। ১৮৯৫ সালে নিজের উইলে তিনি এই পুরস্কারগুলোর প্রবর্তন করেছিলেন।
The post শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.





