সংকটের আগেই ইন্টারনেট প্রস্তুতির তাগিদ

এপিআরআইজিএফে এআই জবাবদিহি মানুষের হাতে রাখার আহ্বান

  • এআই সিদ্ধান্তে শনাক্তযোগ্য মানুষ বা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান
  • সংকটের আগেই স্থিতিস্থাপক ইন্টারনেট অবকাঠামো তৈরির তাগিদ
  • এশিয়া-প্যাসিফিক অংশগ্রহণে কাঠমান্ডুতে এপিআরআইজিএফ ২০২৬ শুরু
  • এপিআরআইজিএফে এআই জবাবদিহি মানুষের হাতে রাখার আহ্বান
    ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১৫  
    ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১৮  

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সিদ্ধান্তের দায় কোনো যন্ত্রের ওপর নয়, শনাক্তযোগ্য মানুষ বা প্রতিষ্ঠানের ওপরই থাকতে হবে—এ আহ্বানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ১৭তম এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম, এপিআরআইজিএফ ২০২৬। একই সঙ্গে সংকট দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ইন্টারনেট অবকাঠামো, ডিজিটাল অধিকার, সাইবার নিরাপত্তা, দুর্যোগ যোগাযোগ এবং এআই জবাবদিহির কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ফোরামের উদ্বোধনী আলোচনায়।

    ৫ অক্টোবর, সোমবার নেপালের ললিতপুরের গ্বারকোয় অবস্থিত রয়্যাল টিউলিপ কাঠমান্ডুতে এপিআরআইজিএফ ২০২৬-এর মূল সম্মেলন শুরু হয়। ৪ অক্টোবর ছিল প্রাক-আয়োজন ও সক্ষমতা উন্নয়ন পর্ব; মূল সম্মেলন চলছে ৫ থেকে ৭ অক্টোবর। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আয়োজন সরাসরি, স্থানীয় হাব ও অনলাইন—তিন মাধ্যমেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেপালের প্রধান বিচারপতি ড. মনোজ কুমার শর্মা বলেন, “ইন্টারনেট বিপর্যয় মোকাবিলায় সক্ষম হলে ন্যায়বিচারও বিপর্যয় মোকাবিলায় সক্ষম হয়।”

    তিনি বলেন, সংকটের সময়ে ইন্টারনেট শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি বিচারপ্রাপ্তি, জনসেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তাই ইন্টারনেট ব্যবস্থা দুর্বল হলে ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় সেবাও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

    গত বছরের অস্থিরতায় নেপালের আদালতের নথি হারিয়ে যাওয়া এবং এ বছরের বন্যায় পুরো জেলা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, “বিচারব্যবস্থা যদি কেবল ভৌত অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল থাকে, তবে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে।”

    এআই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জবাবদিহি অবশ্যই কোনো শনাক্তযোগ্য মানুষ বা প্রতিষ্ঠানের ওপর থাকতে হবে, কখনোই কোনো যন্ত্রের ওপর নয়।”

    নেপালের রেডিও নেপালও জানিয়েছে, উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি ইন্টারনেট বিপর্যয়ের ঝুঁকি আগেই শনাক্ত, মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর কৌশল তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, জনসেবা ক্রমেই নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় মানুষের অধিকার ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষায় স্থিতিস্থাপক ইন্টারনেট ও ডিজিটাল অবকাঠামো অপরিহার্য।

    “সংকটকালে স্থিতিস্থাপক ইন্টারনেট সুরক্ষা”—এই প্রতিপাদ্যে ৪ থেকে ৭ অক্টোবর এপিআরআইজিএফ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও উদ্বোধনী প্লেনারি অনুষ্ঠিত হয়।

    উদ্বোধনী পর্বে প্রদীপ প্রজ্বালন, স্থানীয় আয়োজকদের স্বাগত বক্তব্য এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স নেতৃত্বের বক্তব্য ছিল। নেপাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জের (NPIX) ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপেশ শ্রেষ্ঠ স্বাগত বক্তব্য দেন। এপিআরআইজিএফের মাল্টিস্টেকহোল্ডার স্টিয়ারিং গ্রুপের চেয়ার অমৃতা চৌধুরী উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। জাতিসংঘের ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের মাল্টিস্টেকহোল্ডার অ্যাডভাইজরি গ্রুপের চেয়ার জেনিফার চুং বক্তব্য দেন। প্রধান অতিথি ছিলেন নেপালের প্রধান বিচারপতি ড. মনোজ কুমার শর্মা। স্থানীয় আয়োজক কমিটির চেয়ার বাবু রাম আরিয়াল উদ্বোধনী পর্বে দায়িত্ব পালন করেন।

    এরপর “Safeguarding Resilient Internet in Times of Crisis” শীর্ষক উদ্বোধনী প্লেনারি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন এপিআরআইজিএফ প্রোগ্রাম কমিটির কো-কনভেনর ড. ভোজ রাজ ঘিমিরে। আলোচনায় অংশ নেন নেপাল সরকারের ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ডিজিটাল গভর্ন্যান্স অফিসের যুগ্মসচিব সুভাষ ধাকাল, LIRNEasia-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নুয়ান ওয়াইড্যানাথা, ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক রুকামানী মহার্জন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট বিশেষজ্ঞ তাহানি ইকবাল এবং Meta-র পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রুজান সারওয়ার।

    হোস্ট স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ার বাবু রাম আরিয়াল বলেন, “সংকটের সময় স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করা যায় না। এটি সংকটের আগেই তৈরি করতে হয়।”

    জাতিসংঘের ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের মাল্টিস্টেকহোল্ডার অ্যাডভাইজরি গ্রুপের চেয়ার জেনিফার চুং স্থানীয় ও আঞ্চলিক অভিজ্ঞতাকে বৈশ্বিক আইজিএফ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান।

    এপিআরআইজিএফ মাল্টিস্টেকহোল্ডার স্টিয়ারিং গ্রুপের চেয়ার অমৃতা চৌধুরী বলেন, উদীয়মান প্রযুক্তির ঝুঁকি, ডিজিটাল বৈষম্য ও অনলাইন নিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা, সংলাপ এবং বৈচিত্র্যময় কণ্ঠস্বর প্রয়োজন।

    এবারের ফোরামে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ১৩০ জন এবং নেপালের ১৫০ জন অংশগ্রহণকারী সরাসরি যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া ১১টি রিমোট হাব ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও অংশগ্রহণকারীরা যুক্ত হয়েছেন। ১৭টি অর্থনীতি থেকে নির্বাচিত ৩৮ জন ফেলোও এবারের আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন। মোট ১৭৩টি আবেদনের মধ্য থেকে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে।

    বিপর্যয়-সহনশীল ইন্টারনেটেই টিকে থাকে ন্যায়বিচার।  ইন্টারনেট দুর্বল হলে ন্যায়বিচারও ঝুঁকিতে পড়ে - নেপালের প্রধান বিচারপতি

    এপিআরআইজিএফ ২০২৬ আয়োজন করছে নেপালের ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ইনস্টিটিউট। সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে ইন্টারনেট সোসাইটি নেপাল চ্যাপ্টার এবং ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ নেপাল। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ফোরামটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে অনলাইন অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

    এবারের ফোরামে ১০৫টি প্রস্তাব থেকে নির্বাচিত ২৯টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের প্রকাশিত তালিকাতেও ১০৫টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে ২৯টি অধিবেশন নির্বাচনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    অধিবেশনগুলোর আলোচনায় রয়েছে সাবমেরিন কেবল বিভ্রাট, ইন্টারনেট বন্ধ, দুর্যোগ সতর্কতা, এআই পক্ষপাত, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা, ডিজিটাল পরিচয় এবং নির্বাচনী সততা। অর্থাৎ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্সের আলোচনাটি এখন শুধু নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে মানবাধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সেবার বিষয়ও সরাসরি যুক্ত হয়েছে।

    একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে এআই পক্ষপাত, ভুল তথ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের তথ্যপ্রাপ্তি, যোগাযোগ ও ডিজিটাল অংশগ্রহণের ধরন পাল্টে দিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এআই বিদ্যমান বৈষম্যও পুনরুৎপাদন করতে পারে। নারী, এলজিবিটিকিউআই+ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এআই-নির্ভর ভুল তথ্য ও পক্ষপাতের কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ফলে বিষয়টি শুধু প্রযুক্তিগত নয়; এটি ন্যায়বিচার, প্রতিনিধিত্ব ও মানবাধিকারের প্রশ্নও।

    সাইবার নিরাপত্তা নীতিতে জেন্ডার অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। সাইবার হামলা, নজরদারি এবং প্রযুক্তি-সহায়ক সহিংসতা নারী ও জেন্ডার-বৈচিত্র্যময় মানুষের ওপর ভিন্নভাবে এবং অনেক ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব ফেলে। তাই জেন্ডার-সংবেদনশীল সাইবার নীতি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবাধিকারভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

    শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে “The Algorithmic Breach” শীর্ষক অধিবেশনেও প্রযুক্তি ও প্ল্যাটফর্ম জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এসেছে। TikTok ও YouTube Shorts-এর মতো অতি-স্বল্প দৈর্ঘ্যের কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম শিশু-কিশোরদের মনোযোগ, চিন্তা ও শেখার প্রক্রিয়ায় কী প্রভাব ফেলছে, তা এখন শুধু পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ নয়; এটি জননীতি ও প্ল্যাটফর্ম জবাবদিহিরও বিষয়। প্রশ্ন উঠছে—ক্ষতি যদি কনটেন্টে নয়, বরং কনটেন্ট পরিবেশনের পদ্ধতিতে থাকে, তাহলে প্রচলিত আইন সেটি কতটা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারে?

    এআই প্রশিক্ষণ উপাত্ত, কপিরাইট এবং নির্মাতাদের অধিকার নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। কোন বই, লেখা, ছবি বা উপাত্ত দিয়ে জেনারেটিভ এআই প্রশিক্ষিত হচ্ছে, তা সাধারণ লেখক, শিল্পী বা ব্যবহারকারীর পক্ষে জানা কঠিন। Books3 উপাত্তভাণ্ডার বিতর্ক, জাপানের কপিরাইট আইন, দক্ষিণ কোরিয়ার এআই বেসিক আইন এবং ইউরোপীয় এআই আইনের আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ উপাত্তের স্বচ্ছতা এখন বৈশ্বিক প্রযুক্তি শাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

    ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো নিয়েও আঞ্চলিক সংলাপ হচ্ছে। ডিজিটাল পরিচয়, অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা এবং সরকারি সেবা প্ল্যাটফর্ম রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থার নকশা ও শাসনে নাগরিকের অংশগ্রহণ কতটা রয়েছে, দক্ষতা, অন্তর্ভুক্তি, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে—এসব প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে। তরুণ গবেষকদের এপিপিও ডিপিআই রিসার্চ গ্রুপ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এসব প্রশ্ন যুক্ত করার চেষ্টা করছে।

    দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি অধিবেশন “Community Radio in the Digital Era”। ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও দুর্যোগ, জলবায়ু জরুরি অবস্থা, সংযোগ বিচ্ছিন্নতা বা ভুল তথ্যের বিস্তারের সময় কমিউনিটি রেডিও এখনো স্থানীয় ভাষা, স্থানীয় আস্থা ও স্থানীয় বাস্তবতার শক্তিশালী মাধ্যম। ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ও সম্প্রচারমাধ্যমের সমন্বয়ে কীভাবে মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া যায়, তা এই আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয়।

    এপিআরআইজিএফের যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে হংকংয়ে। সে সময় বৈশ্বিক ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম পঞ্চম বছরে পৌঁছালেও এশিয়ায় আঞ্চলিক পর্যায়ে একই ধরনের আলোচনার প্ল্যাটফর্ম ছিল না। সেই শূন্যতা পূরণে এপিআরআইজিএফ গড়ে ওঠে। এরপর ১৬টি আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এবার ১৭তম আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে নেপালে। আয়োজকদের বর্ণনা অনুযায়ী, এপিআরআইজিএফ জাতীয় ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামগুলোর আলোচনাকে আঞ্চলিক পর্যায়ে যুক্ত করে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স নিয়ে সংলাপ, সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

    ফোরামের সামগ্রিক আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—ইন্টারনেট এখন আর কেবল তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়। এটি অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, মানবাধিকার এবং নাগরিক জীবনের অপরিহার্য অবকাঠামো। ফলে ইন্টারনেট ভেঙে পড়লে শুধু সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না; মানুষের অধিকার, জীবিকা, নিরাপত্তা ও আস্থাও চাপের মুখে পড়ে।

    জলবায়ু দুর্যোগ, সাইবার হামলা, ভুল তথ্য, প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি, এআইয়ের পক্ষপাত এবং ডিজিটাল বৈষম্য এখন একই নীতিনির্ধারণী আলোচনার অংশ। তাই ফোরামের মূল আহ্বানও সংকট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার বদলে সংকট-পূর্ব প্রস্তুতি।

    কাঠমান্ডুর এই আয়োজনের বার্তা তাই প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির দিকে যাচ্ছে। স্থিতিস্থাপক ইন্টারনেট মানে শুধু কেবল, সার্ভার ও সংকেত সচল রাখা নয়; মানুষের কণ্ঠ, অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকেও সুরক্ষিত রাখা।

    ভবিষ্যতের ইন্টারনেট শুধু প্রযুক্তিবিদদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না—সরকার, নাগরিক সমাজ, কমিউনিটি মিডিয়া, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, তরুণ, গবেষক, শিল্পী, সাংবাদিক এবং সাধারণ ব্যবহারকারীকেও এই নীতিনির্ধারণী আলোচনায় যুক্ত করতে হবে। কারণ ইন্টারনেট সবার এবং এর ভবিষ্যৎও সবার অংশগ্রহণেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।
    //ডিবিটেক/এসভিসিসি/বিপিও/আইএইচ//